ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক জাদুকর এসেছে, কিন্তু নেইমারের মতো এতটা প্রতিভাবান অথচ এতটা নির্যাতিত ফুটবলার খুব কমই এসেছে।
যখন সে বল পায়, তখন ফুটবলটা শুধু খেলা থাকে না, শিল্পে পরিণত হয়।
কিন্তু একটা প্রশ্ন কখনো ভেবেছেন?
কেন নেইমার বারবার মাঠে পড়ে যেত?
কেন তাকে নিয়ে এত ট্রল হতো?
কারণ মানুষ তার পড়ে যাওয়া দেখেছে, কিন্তু তার উপর হওয়া শত শত ফাউল দেখেনি।
যে ছেলেটা ১৭ বছর বয়সে পুরো ব্রাজিলকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই ছেলেটাকে থামানোর জন্য প্রতিপক্ষরা অনেক সময় বলের চেয়ে তার পায়েই বেশি আঘাত করেছে।
২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আশা ছিল নেইমার। কিন্তু কলম্বিয়ার বিপক্ষে পিঠে ভয়ংকর আঘাত পেয়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় তার। পুরো ব্রাজিল কেঁদেছিল সেদিন।
২০১৮ বিশ্বকাপে তাকে নিয়ে হাসাহাসি হয়েছে।
২০২২ বিশ্বকাপে গোড়ালিতে মারাত্মক চোট নিয়েও খেলেছে।
২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে ACL ও মেনিস্কাস ছিঁড়ে যায়। প্রায় দুই বছরের লড়াইয়ের পরও ইনজুরি তাকে ছাড়েনি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও চোটের কারণে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেনি।
তবুও একটা সত্য কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।
নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সে কিংবদন্তি Pelé-কেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্রাজিলের জার্সিতে তার ৭৯ গোল আছে।
অনেকে বলে,
"নেইমার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।"
কিন্তু সবাইকে কি বিশ্বকাপ দিয়েই মাপা হয়?
যে ছেলেটা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলকে একা কাঁধে বহন করেছে, যে প্রতিবার ইনজুরি থেকে ফিরে আবার হাসিমুখে মাঠে নেমেছে, যে হাজারো আঘাতের পরও বলকে ভালোবাসা বন্ধ করেনি, সে কি শুধুই একটা ট্রফির অভাবে ব্যর্থ?
আমার কাছে নেইমার শুধু একজন ফুটবলার নয়।
সে একটা অসমাপ্ত কবিতা।
একটা অপূর্ণ স্বপ্ন।
একটা প্রমাণ যে প্রতিভা সবসময় ভাগ্যের কাছে জিতে না।
আজ যারা বলে "নেইমার অভিনয় করে", তারা হয়তো জানে না, একজন মানুষ তখনই ব্যথা লুকাতে শিখে, যখন তাকে বছরের পর বছর ধরে একই জায়গায় আঘাত করা হয়।
ফুটবল একদিন নেইমারকে ভুলে যেতে পারে।
কিন্তু যারা তার খেলা দেখেছে, তারা জানে...
বল পায়ে নেইমার ছিল জাদু।
আর সেই জাদুকে বারবার ভাঙার চেষ্টা করেছে ইনজুরি।
💔🇧🇷 **ফুটবল হয়তো আরেকজন চ্যাম্পিয়ন পাবে, কিন্তু নেইমারের মতো আরেকজন শিল্পী পাওয়া খুব কঠিন।**
#NeymarJr 🇧🇷
#RespectNeymar 💔
#FootballArtist ⚽✨
#Shaharukh

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন