Welcome To My Official Blog Site

নতুন নতুন সব আপডেট পেতে আমাদের সাইটের সাথেই থাকুন। আর কোন সমস্যা হলে আমার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করবেন www.facebook.com/ShaharukhOfficial

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২

মোঃ শাহারুখ হোসেন'র অনুকাব্য ৭২

 

না চিনেই তো ভালোবেসেছিলে,

নিয়েছিলে আপন করে।

সামান্য ঝড়ে কেন হাত ছাড়লে?

রাখতে পারলে না ধরে!


~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ১১তম পর্ব (শেষ পর্ব) ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
১১তম পর্ব (শেষ পর্ব)
১০ম পর্ব পড়ুন এখানে...
এসে দেখলো বাবা দেয়ালের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।
ছেলেঃ এ কী বাবা তুমি মায়ের ছবি দেখে দেখছো কেন!
বাবাঃ তোমাকে না বললাম, আমাকে একটু একা থাকতে দাও!
ছেলেঃ সরি বাবা!
বাবাঃ হুম কী জন্য এসেছো তাই বলো?
ছেলেঃ আচ্ছা বাবা, আমার মনে সেই থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তুমি যে গল্পটা বলছো, এই গল্পটা তুমি কীভাবে জানো? সেই ছেলে/মেয়ে দু'জন কী তোমার বন্ধু ছিলো? এতো বিস্তারিতভাবে তুমি গল্পটা বলছো, তুমি এতোকিছু কীভাবে জানো? এটা কার গল্প?
বাবাঃ (চোখে মুছে একটু মুচকি হেসে) এতোক্ষণেও বুঝতে পারো নি?
ছেলেঃ না....আর সেজন্যেই তো শুনতে এসেছি।
বাবাঃ এই গল্পের সেই ছেলেটা আর কেউ নয় রে "স্বপ্ন", সেই ছেলেটাই তোমার বাবা "শিহাব আহমেদ"।
ছেলেঃ হোয়াট???? তুমি???? ওয়েট ওয়েট.. বাবা। কী বলছো এসব!.. আমার মাথা তো পুরাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছুই বুঝতেছি না।
বাবাঃ হ্যাঁ বাবা এটাই সত্য। সেদিন তোমাকে পৃথিবীতে আনতে গিয়েই তোমার মা এই পৃথিবী কে বিদায় নেয়।
ছেলেঃ কিন্তু তুমি এতোদিন আমাকে বলেছ, আমার মা নাকি তোমার সাথে ঝগড়া করে বিদেশে চলে গেছে। আমার এস এস সি পরীক্ষার পর আমাকে নিয়ে মা'য়ের কাছে যাবে। কিন্তু এখন কী বলছো বাবা!! (ছেলে কান্না করে ফেলে)
বাবাঃ আসলে তুমি সত্যটা জানলে সহ্য করতে পারতে না, মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে। সেজন্য এতোগুলা বছর তোমাকে এই মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে এসেছি৷ অল্প বয়সে মা হারানোর ব্যথা তোমাকে দিতে চাই নি। আর সৎ মা তোমার খেয়াল ঠিকমতো রাখবে কী না! এই ভেবে কখনো দ্বিতীয় বিয়েও করি নি।
ছেলেঃ (ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে জড়িয়ে ধরে) বাবা তুমি এতোগুলা বছর এই কষ্ট বুকে নিয়ে বেঁচে আছো! এতোদিন কেন আমাকে বলো নি? সব সময় মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে কেঁদেছ। জিজ্ঞাসা করলে বলতে এটা তোর মা, ভালো করে লেখাপড়া করো তাহলে তোমার মায়ের কাছে নিয়ে যাবো।
বাবাঃ আরে পাগল ছেলে কাঁদছো কেন? তোমার মা'কে তো কথা দিয়েছিলাম বিয়ের পর আমার সন্তানকে আমাদের গল্প বলবো৷ আর আজ পনেরো বছর পর তোমার মা'কে দেয়া সেই কথাটা পূরণ করলাম।
ছেলেঃ বাবা, তুমি আমাকে মাফ করে দেও। আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না৷ তুমি আমার জন্য নিজের জীবনের এতোগুলা বছর নিঃসঙ্গতায় কাটিয়েছো। আর আমি তোমাকে কষ্ট দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে চাইছিলাম। আমি ভুল করেছি বাবা, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
বাবাঃ ক্ষমা চাইতে হবে না বাবা। তোমার ওপর আমার কোনো রাগ নেই। তুমি যে বুঝতে পেরেছো এতেই আমি অনেক খুশি।
ছেলেঃ আমি এতোদিন মায়ের বিদেশ চলে জন্য তোমাকে দোষারোপ করতাম। কিন্তু আজ সবকিছু জেনে নিজের উপর অনেক রাগ হচ্ছে। আমাকে ভূমিষ্ট করতে গিয়ে মা মৃত্যু বরণ করেছে, আমিই তো দায়ী।
বাবাঃ পাগল ছেলে বলে কী! তুমি বা আমি কেউ-ই দায়ী নই। আল্লাহ তোমার মায়ের হায়াত ওই পর্যন্ত রেখেছিলো সেজন্য আল্লাহ নিয়ে গেছেন। নিজেকে অপরাধী বা দোষী মনে করো না বাবা।
ছেলেঃ এভাবে আমাদের গল্পটা শেষ হবে বুঝিনি, বাবা।
বাবাঃ তোমার মায়ের আর আমার গল্পটা হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? এটা আজও জানি না। আসলে ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না, ভালোবাসা পরিবর্তন হয়। ভালোবাসা একজন থেকে আরেকজনে স্থান্তরিত হয়। আর তাইতো তোমার মায়ের আমার ভালোবাসার গল্পটা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু ভালোবাসা বেঁচে আছে তোমার মাঝে। আর এভাবেই ভালোবাসা বেঁচে থাকে পৃথিবীতে কারো না কারো মাঝে।
ভালোবাসা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়না।

ছেলেঃ হুম বাবা। পদার্থ বিজ্ঞানে পড়েছি, শক্তির প্রধান উৎস সূর্য। আর এই শক্তি কখনো পুরোপুরি শেষ হয় না। এটা এক পদার্থ থেকে আরেক পদার্থে সঞ্চারিত হয়। ঠিক ভালোবাসাও তেমন শেষ হয় না, কারো না কারো মাঝে থাকে।
বাবাঃ হ্যাঁ ঠিক তাই। সামনে তোমার এস এস সি পরীক্ষা। ভালো করে লেখাপড়া করবে। তোমাকে নিয়ে তোমার মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিলো। তুমি মানুষের মতো মানুষ হবে।
ছেলেঃ এজন্যই কী আমার নাম "স্বপ্ন" রেখেছো?
বাবাঃ এই নামটা তোমার মা'য়ের দেয়া। তোমার জন্মের আগেই ঠিক করে রেখেছিলো।
ছেলেঃ বাবা!
বাবাঃ হ্যাঁ বলো..
ছেলেঃ মায়ের কবরটা কোথায়? আমাকে নিয়ে চলো, আমি জিয়ারত করে আসতে চাই। (দু'চোখে অশ্রু)
বাবাঃ এসো আমার সাথে...

কবর জিয়ারত করে বাসায় ফিরতে ফিরতে বাবা ছেলেকে বলছেন...
বাবাঃ সবকিছুই তোমাকে বললাম। কখনো মন খারাপ করবে না, নিজেকে অপরাধী মনে করবে না। মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করবে আর মানুষের মতো মানুষ হবে।
ছেলেঃ ইনশাআল্লাহ 'বাবা'।

(এদের গল্পটা হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু এই ভালোবাসা চলতে থাকবে অনন্তকাল। মানুষের মাঝে এমন ভালোবাসা বেঁচে থাকুক। পুরো পৃথিবীটা হোক ভালোবাসার।)

[সম্পূর্ণ গল্পটা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো জানাবেন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের অনুপ্রেরণা পেলে আরো ভালো কিছু লিখবো। ধন্যবাদ সকলকে এতোদিন সব পর্বগুলো পড়ার জন্য।]

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ১০ম পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?

দশম পর্ব (১০ম পর্ব)
৯ম পর্ব পড়ুন এখানে...
স্কুল থেকে ফিরে ছেলে (স্বপ্ন) তার বাবার কাছে আবার গল্প শুনতে বসে। ও বাবা, তারপর কী হয়েছিলো?
বাবাঃ তারপর! মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায়।
ছেলেঃ কিন্তু সেই ছেলেটার কী হলো?
বাবাঃ গল্পের মজার কাহিনী তো এখানেই। মেয়েটা তো জানতোই না যে তার বিয়ে কার সাথে হচ্ছে। সে বিয়ের পর জানতে পারে এবং গাড়িতে ওঠার সময় দেখতে পারে। দেখে তো নিজের চোখকে বিশ্বাসই করতে পারছিলো না।
ছেলেঃ কেন বাবা?
বাবাঃ কারণ সে দেখলো তার বিয়ে হয়েছে সেই মেসেঞ্জারে কথা বলা ছেলেটার সাথে।
ছেলেঃ কী বলো বাবা! এটা কীভাবে সম্ভব হলো?
বাবাঃ হুম এটাই সম্ভব হয়েছে। আসলে ছেলেটা একটা ভালো চাকরি করতো। আর মেয়েটার সাথে দীর্ঘদিন কথা বলে মেয়েটার সম্পর্কে সব খোঁজ খবর নিয়ে রেখেছে। তাই মেয়েটার পরীক্ষার পরে ছেলেটা তার পরিবারকে জানাই। আর দুই পরিবার রাজি হয়।
ছেলেঃ তাহলে সেইদিন মেয়েটাকে দেখতে ওই ছেলেটার পরিবার গিয়েছিলো?
বাবাঃ হ্যাঁ।
ছেলেঃ ওহ এইবার বুঝলাম। এইজন্যই ছেলেটা সবসময় মেয়েটার কথায় কান দিতো না। কারণ সে তো জানতো তার বিয়ে ওই মেয়েটার সাথেই হচ্ছে। ঠিক বলেছি না বাবা?
বাবাঃ হ্যাঁ ঠিক। এই তো আমার লক্ষী ছেলেটা বুঝে গেছে।
ছেলেঃ বাবা তারপর কী হয়েছিলো?
বাবাঃ তারপর মেয়েটা পুরো পথে বারবার ছেলেটার দিকে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকাচ্ছিলো। কিন্তু নতুন বউ বলে কথা, তাই হাজার প্রশ্ন তার মনে থাকা স্বত্ত্বেও জিজ্ঞাসা করতে পারছিলো না। কেমন যেন অস্থিরতা কাজ করছিলো মেয়েটার ভিতর।
ছেলেঃ সত্যি বাবা ওমন পরিস্থিতিতে না জিজ্ঞাসা করে থাকা যায় না।
বাবাঃ হুম, কিন্তু মেয়েটা নিজেকে শান্ত করে অপেক্ষা করলো। রাতে যখন স্বামী মানে সেই ছেলেটাকে পেলো সব ঘটনা শুনে তারপর সে শান্ত হলো। তবে মেয়েটা এখন অনেক খুশি, কারণ সে যাকে মনে মনে চেয়েছিলো তাকেই জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে।
ছেলেঃ কেমন অদ্ভুত ব্যাপার।
বাবাঃ আর মেয়েটা তখন তার মনের কথা ছেলেটা কে বলে। ছেলেটাও বলে যে "আমিও তোমাকে তোমার থেকেও বেশি ভালোবাসি" আর তাই বউ করে ঘরে এনেছি। আর কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।
ছেলেঃ যাক অবশেষে তারা দু'জন দুজনকে পেয়ে গেলো।
বাবাঃ হ্যাঁ।
ছেলেঃ তারপর নিশ্চয় তারা সুখে শান্তিতে সংসার করছিলো?
বাবাঃ সুখ! সুখ সবার কপালে বেশিক্ষণ থাকে না।
ছেলেঃ কেন বাবা, একথা বলছো কেন?
বাবাঃ প্রথম দুই বছর খুব সুখে শান্তিতে তারা সংসার করছিলো। দুই বছর পরে মেয়েটা প্রেগন্যান্ট হয়।
ছেলেঃ এটা তো সুখের সংবাদ।
বাবাঃ এটা নিঃসন্দেহে সুখের সংবাদ ছিলো। তারাও অনেক খুশি হয়েছিলো এই খবরে।
ছেলেঃ তাহলে?
বাবাঃ ডেলিভারির সময় হয়ে গেলো, মেয়েটাকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। (বলতে বলতে কান্না শুরু করে)
ছেলেঃ ও বাবা তোমার আবার কী হলো? তুমি কাঁদছো কেন?
বাবাঃ... (কোনো উত্তর দেয় না।)
ছেলেঃ বাবা, কী হলো তোমার? হাসপাতালে নিয়ে গেলে খারাপ কিছু হয়েছিলো?
বাবাঃ চোখ মুছে.... হ্যাঁ মেয়েটার অবস্থা অনেক খারাপ ছিলো। ডাক্তার বললো..সিজার না করলে বাচ্চা এবং মা দুজনকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে যাবে।
তারপর তাকে নিয়ে যায়...প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ডাক্তার বের হয়...ছেলেটা দৌড়ে গিয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার বলে "আপনার একটা ফুটফুটে ছেলে সন্তান হয়েছে" - আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু ডাক্তার আমার ওয়াইফ কেমন আছে? "সরি স্যার আপনার স্ত্রী কে বাঁচানো সম্ভব হয় নি" - ডাক্তার। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও দুজনকে বাঁচাতে পারিনি।
ছেলেটা একথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে মাটিতে বসে পড়ে।
ছেলেঃ (ছেলের চোখে জল ছলছল করছিলো) এভাবে তাদের ভালোবাসা শেষ হয়ে গেলো? এমন মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক ঘটনা!
বাবাঃ না, ভালোবাসা শেষ হয় নি। "স্বপ্ন" তুমি এখন যাও, আমি একটু একা থাকতে চাই।

(স্বপ্নের বাবা কিছুক্ষণ একা থাকতে চাইলো। ছেলে (স্বপ্ন) রুম থেকে চলে গেলো। বাইরে যেয়ে ছেলেটা ভাবতে থাকে পুরো গল্পটা নিয়ে। হঠাৎ তার মনে একটা প্রশ্ন আসে আর সে আবার ঘরে আসে বাবাকে দেখলো....(চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ৯ম পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?

নবম পর্ব (৯ম পর্ব)
৮ম পর্ব পড়ুন এখানে...
ছেলেঃ হ্যালো...
মেয়েঃ হুম, কী করছো?
ছেলেঃ আমি আবার কী করবো, আমার কথা বাদ দাও। কালকে তোমার বিয়ে, আর এখন বিয়ের প্রস্তুতি না নিয়ে আমাকে কল কেন?
মেয়েঃ কেন! বিয়ে তো কী হয়েছে? তোমাকে কল করা যাবে না?
ছেলেঃ আরে যাবে না কেন, এমনি বললাম আর কি।
মেয়েঃ হুম বুঝি বুঝি, এখনই পরপর ভাবা শুরু করেছো।
ছেলেঃ আপন ভেবে কী হবে! তোমার আপন যে হবে তাকে তো কালকে পেয়ে যাবে।
মেয়েঃ এখনো ঢং করা বাদ দাও বলছি! বিয়ে করলাম না তাই এই অবস্থা। বিয়ে হয়ে গেলে তো জীবনে খোঁজ-ই নিবা না।
ছেলেঃ আমি কী পাগল নাকি, অন্যের বউয়ের খোঁজ নিয়ে তার সংসারে অশান্তি করবো।
মেয়েঃ ধুর, তোমার এসব কথা শুনার জন্য কল করিনি। বাই।। (মেয়েটা কল কেটে দেয়।)

(ছেলেটা ভাবে আজব তো, আমি কী এমন বললাম) কিছুক্ষণ পর মেয়েটা আবার কল করে।
রিসিভ করতেই শুরু.....
মেয়েঃ ওই তোর সমস্যা কী? আমি যে রেগে গিয়ে কল কেটে দিলাম তুই কল ব্যাক করলি না কেন?
ছেলেঃ কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তুই করে বলছো কেন?
মেয়েঃ কী করবো তা!
ছেলেঃ আমি জানি তুমি রাগ করে বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না। ঠিকই আবার কল করবে তাই আমি কল করি নি।
মেয়েঃ হুম, খুব বোঝেন উনি আমাকে। বুঝলে তো আজ এমন হতো না। (বিড়বিড় করে বলে মেয়েটা)
ছেলেঃ কী বিড়বিড় করে বলছো?
মেয়েঃ কিছু না। আচ্ছা তোমার কী আমাকে কিছু বলার আছে?
ছেলেঃ কল করেছো তুমি, কিছু বলার তো তোমার থাকার কথা।
মেয়েঃ আমি কল করেছি বলে তোমার বলার থাকবে না?
ছেলেঃ কী আর বলার থাকবে?
মেয়েঃ ক্যান, কালকে আমার বিয়ে হয়ে যাবে তোমার কী খারাপ লাগছে না? তোমার কষ্ট হচ্ছে না?
ছেলেঃ আজব তো! খারাপ লাগবে বা কেন আর কষ্টই বা লাগবে কেন? এটা তো একটা আনন্দের বিষয়।
মেয়েঃ ওহ, সত্যিই কী খারাপ লাগছে না?
ছেলেঃ না লাগছে না।
মেয়েঃ একটুও মিস করবে না?
ছেলেঃ মিস তো অস্তিত্বহীন মানুষকে কিরা যায়। কিন্তু তোমার অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান। তাই মিস করার প্রশ্নই ওঠে না।
মেয়েঃ যাক ভালো, বুঝেছি।
ছেলেঃ বুঝলেই ভালো।
মেয়েঃ আচ্ছা ভালো থেকো আর হয়তো কখনো কথা হবে না। তুমিও একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিও।
ছেলেঃ হুম ঠিক আছে।
মেয়েঃ রাখছি। (এই বলে মেয়েটা কল কেটে দেয়।কিন্তু ছেলেটা কে তার মনের কথা বলতে পারে না৷ নিজের ভিতর ভালোবাসা লুকিয়ে নিরবে কাঁদতে থাকে।)

শুক্রবার সকাল
মেয়েটা সারারাত না ঘুমিয়ে অঝোরে কেঁদেছে। চেহারা একেবারে ফ্যাকাসে মলিন হয়ে গেছে। বাসার লোকজন বলছে কী রে সারারাত ঘুমাস নি? চেহারার এ কী হাল করেছিস! স্মৃতি কোনো উত্তর দেয় না। বিয়ে বাড়ি
অনেক লোকজন, হাসি উল্লাসে সবাই মেতে আছে। কিন্তু স্মৃতি হাজার লোকের ভীড়েও যেন একা। কাউকে কিছু বলতেও পারছে না আবার ছেলেটাকেও বলতে পারলো না। আজকে অনেকবার সে ছেলেটাকে কল করে। কিন্তু ছেলেটা একবারও কল রিসিভ করে নি। স্মৃতি'র মনে ভালো লাগছে না, কী হলো ওর ফোন তুলছে না কেন? (এভাবে অনেকবার চেষ্টা করেও ছেলেটার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারে নি।)

বাবা,, ও বাবা তারপর কী হলো? এ কী বাবা তুমি কাঁদছো কেন?
- কই পগল কাঁদবো কেন? চোখে কী যেন পড়েছে।
- ওহ। বাবা, তারপর কী হয়েছিলো? সেই ছেলেটার কোনো খোঁজ পেয়েছিলো মেয়েটা?
- "স্বপ্ন" তোমার স্কুলের সময় হয়ে গেছে, যাও গুছিয়ে স্কুলে যাও।
- না বাবা, আজকে গল্পটা পুরো শুনবো। প্লিজ বাবা আজকে স্কুলে না যায়? প্লিজ।
- কোনো কথা না, আগে লেখাপড়া তারপর অন্যকিছু। তুমি স্কুল থেকে এলে বাকিটা শোনাবো।
- ওকে বাবা। কিন্তু এইটুকু তো বলো যে, মেয়েটির কী বিয়ে হয়ে গিছিলো?
- হ্যাঁ......... (চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ৮ম পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
অষ্টম পর্ব (৮ম পর্ব)

ছেলেঃ কী হলো, কাঁদছো কেন! সব ঠিক আছে তো?
মেয়েঃ কিচ্ছু ঠিক নেই।। (আরো কান্না)
ছেলেঃ ছেলে পক্ষ পছন্দ করে নি বলে কাঁদছো?
মেয়েঃ পছন্দ করে নি তাই না! এতো পছন্দ করা করছে যে আগামী সপ্তাহে বিয়ের তারিখ ঠিক করে গেছে।
ছেলেঃ কী! এতো বড় সুসংবাদ আর তুমি কাঁদছো? কংগ্রাচুলেশনস।।
মেয়েঃ ধুর! আমি বিয়ে করবো না। আমি তোমার সাথে কথা না বলে থাকবো কী করে!
ছেলেঃ ওহ এই ব্যাপার! তোমার হাসব্যান্ড কে বলে আমার সাথে মাঝেমাঝে কথা বলবে, হয়ে গেলো।
মেয়েঃ ধ্যাৎ বোঝে না কিছু। (মেয়েটা ছেলেটাকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে। সব কথা ছেলেটাকে বলতে পারলেও কিসের জন্য অদৃশ্য বাঁধা ভালোবাসি বলতে আটকাচ্ছে।)
ছেলেঃ কী বুঝবো? বোঝায় বলো।
মেয়েঃ নাহ কিছু না, ভালো থেকো। আর দোয়া করি তোমার মনের মতো মেয়েকে বিয়ে করে সুখী হও।
ছেলেঃ হুম হয়েছে। যাও বিয়ের প্রস্তুতি নেও। আর এক সপ্তাহ আছে।
মেয়েঃ বাই।। (কলটা কেটে মেয়েটা কান্না শুরু করে। ভাবে আমি কী ওকে ভালোবাসার কথা টা জানিয়ে দেবো! আবার ভাবে ও যদি আমাকে ভালো না বাসে। ও যদি অন্যকিছু মনে করে, আমাকে যদি ফিরিয়ে দেয়। আচ্ছা ওর মনে কী আছে, ও কী আমাকে ভালোবাসে নাকি শুধু একজন ভালো বন্ধু মনে করে! আমার জানতে হবে। আগে ওর মুখ থেকে জানবো তারপর আমার কথা জানাবো, না হলে কখনোই বলবো না।)

কয়েকদিন পর,
মেয়েটা কল করে ছেলেটা কে...
মেয়েঃ কী করছো?
ছেলেঃ তোমার কথা ভাবছিলাম।
মেয়েঃ আমার কথা! কী ভাবছিলে? (অনেক আগ্রহ নিয়ে)
ছেলেঃ ভাবছি, তোমার বিয়ের পর তোমার কয়টা ছেলে মেয়ে হবে। তাদের কী নাম রাখবে, আমার কথা তাদের বলবে কী না।
মেয়েঃ আমার বিয়ের পর কয়টা ছেলেমেয়ে হবে সেটা তোমার না ভাবলেও চলবে। আমি আর আমার স্বামী ভাববো।
ছেলেঃ বাহ বাহ! দুদিন আগেও বিয়ে করবো না বলে কাঁদছিলে আর এখন আমার স্বামী? বিয়ের আগেই স্বামী ভক্ত! খুব ভালো বাঙালি নারীদের স্বামীর প্রতি ভালোবাসা বেশিই থাকে।
মেয়েঃ হ্যাঁ ভালো তো বাসবো-ই। তুমিও তো বিয়ের পর বউয়ের আঁচল ধরে ঘুরে বেড়াবে।
ছেলেঃ আমার বউকে আমি অনেক ভালোবাসবো।
মেয়েঃ সে তোমার কথাবার্তায় বোঝা যায়। তা আমার কথা কী তোমার ছেলে মেয়েদের বলবে?
ছেলেঃ হ্যাঁ অবশ্যই বলবো, তোমার মতো নাকি।
মেয়েঃ সত্যি! কী বলবে?
ছেলেঃ যা যা হয়েছে সবই বলবো।
মেয়েঃ হুম, আচ্ছা একটা কথা বলবে?
ছেলেঃ কাহিনী কী! আজ পর্যন্ত তো কোনো কিছুতে পারমিশন চাও নি৷ আজ কী এমন কথা বলবে যে অনুমতি চাইছো?
মেয়েঃ নাহ তেমন কিছু না। তোমার কী কোনো পছন্দের মানুষ আছে?
ছেলেঃ পছন্দের মানুষ! হ্যাঁ আছে তো। কেন?
মেয়েঃ আছে! কে সে?
ছেলেঃ তুমি।
মেয়েঃ আমি সিরিয়াস, বলো না কাউকে পছন্দ করো? কাউকে ভালোবাসো?
ছেলেঃ হঠাৎ এই কথা কেন? কী হয়েছে?
মেয়েঃ আরে বলো না।।
ছেলেঃ গত কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি তুমি আমাকে কিছু একটা বলতে চাচ্ছো, কিন্তু বলছো না। কী বলবে নিঃসংকোচে বলে ফেলো।
মেয়েঃ নাহ কিছু না। আর তিনদিন পর আমার বিয়ে, তাই ভাবলাম তোমার পছন্দের যদি কেউ থাকে তার সাথে তোমারও বিয়ে দিতে বলতাম তোমার আম্মু কে।
ছেলেঃ তাই না! আমার বিয়ে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। নিজের বিয়ে নিয়ে ভাবো। আচ্ছা একটা কথা, তোমার হবু বরকে তো দেখালে না?
মেয়েঃ ধুর আমি তাই এখনো দেখি নি।
ছেলেঃ কী বলো! তুমি না দেখেই বিয়েতে রাজি হয়েছো? দেখবে না?
মেয়েঃ না দেখবো না। ছবি দেখতে বলেছিলো, আমি রাগ করে দেখি নি।
ছেলেঃ আজব তো! ছেলে যদি দেখতে সুন্দর না হয়, চোখ ট্যারা হয়, তখন??
মেয়েঃ সে যেমনই হোক, বাসর রাতে ওকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলবো।
ছেলেঃ কী সাংঘাতিক মেয়ে রে বাবা! বরকে মেরে জেলে যাওয়ার শখ হয়েছে?
মেয়েঃ বরকে মেরে জেলে সারাজীবন থাকবো। তোমার কোনো সমস্যা?
ছেলেঃ নাহ, আমার আবার কী সমস্যা! আমি মাঝে মাঝে জেলে তোমার সাথে দেখা করতে যাবো।
মেয়েঃ কারো দেখা করতে আসতে হবে না। রাখো তো ফোন কথা বলতে ইচ্ছা করছে না।

বৃহস্পতিবার, মেয়েটার গায়ে হলুদ হয়ে গেলো। আগামীকাল তার বিয়ে, কিন্তু ছেলেটাকে এখনো তার মনের কথা বলতে পারে নি৷ রাতে সিন্ধান্ত নিলো এবার বলেই দেবে, যা হবার তাই হবে।
মেয়েটা ছেলেটা কে কল করলো....(চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ৭ম পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
সপ্তম পর্ব (৭ম পর্ব)
কিন্তু সময় যত যাচ্ছে মেয়েটার চিন্তা ততই বাড়ছে। মেয়েটার চিন্তার কারণ তার এইচএসসি পরীক্ষা। আসলে পরীক্ষার থেকেও বড় চিন্তা তার বিয়ে নিয়ে। কেননা তার পরিবার বলে রেখেছে পরীক্ষা শেষ হলে তাকে বিয়ে দিয়ে দেবে। এজন্য সময় যত এগুচ্ছে মেয়েটার চিন্তা তত বাড়ছে।
এদিকে ছেলেটার সাথে মেয়েটার খুব ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তারা একে অপরের সবসময় খোঁজ খবর নেয়। তাদের খুব ভালো ভাবেই সময় অতিবাহিত হচ্ছে।

এপ্রিল মাস
মেয়েটার পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। পরীক্ষা দিয়ে এসে ছেলেটার সাথে কথা বলে, সবসময় কেমন আনমনা হয়ে থাকে।
ছেলেঃ কী ব্যাপার! ইদানীং দেখছি কেমন অন্যমনস্ক থাকো, কী হয়েছে?
মেয়েঃ কই কী হবে! কিছু না।
ছেলেঃ কিছু তো হয়েছেই। আমাকে বলা যাবে না?
মেয়েঃ আসলে তুমি তো সব-ই জানো, আমার পরীক্ষা শেষ হলে আমাকে বিয়ে দিয়ে দেবে। আমি এখন বিয়ে করতে চাই না। কিন্তু কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। ছেলে দেখা শুরু করে দিছে ভালো কাউকে পেলেই বিয়ে দেবে।
ছেলেঃ আরে এটা তো খুব ভালো কথা৷ বিয়ে তো একদিন করতেই হবে, তাইনা?
মেয়েঃ হ্যাঁ, কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি না।
ছেলেঃ এতো টেনশন করছো কেন, যেটা করতে হবে সেটা আগেভাগেই করা ভালো। দাওয়াত দিও আমায়
মেয়েঃ যাও তো, আমি আছি আমার চিন্তায়। আর উনি আছে বিয়ের দাওয়াত নিয়ে। এখন বাই পরে কথা হবে।
ছেলেঃ ওকে বাই

দেখতে দেখতে মেয়েটার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো। আর যেই কথা সেই কাজ ইতোমধ্যে পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরমধ্যে কয়েকজন ছেলে পক্ষ মেয়েকে দেখেও গেছে। কিন্তু এখনো পাকা কথা হয় নি কারো সাথে।
আজ সোমবার, আগামী শুক্রবার আরেক ছেলে পক্ষ মেয়েকে দেখতে আসবে। এমন-ই কথা সে শুনতে পেলো, বাসার সবাই বলাবলি করছিলো। সে একথা শুনা মাত্রই ছেলেটা কে কল করে...
মেয়েঃ হ্যালো
ছেলেঃ হুম, কী খবর?
মেয়েঃ আর খবর, আগামী শুক্রবার আবার একজন আসবে দেখতে।
ছেলেঃ কী!! ওয়াও এতো দারুণ খবর। দোয়া করি তাদের যেন পছন্দ হয়ে যায়। অনেকদিন কারো বিয়ের দাওয়াত খাই না।।
মেয়েঃ এইবার বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে দিলাম। (মেয়েটা রেগে রেগে বললো)
ছেলেঃ আরে রাগ করছো কেন? আচ্ছা শুনো, তুমি তো এখন কারো সাথে রিলেশন করো না। আর কোনো পছন্দের মানুষও নেই। তাহলে বিয়ে করতে সমস্যা কী!
মেয়েঃ না... তা ঠিক নেই (আমতাআমতা কণ্ঠে)
ছেলেঃ না না না,, কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে। কেউ আছে নাকি পছন্দের? আমাকে বলবে না?
মেয়েঃ ওই গাধা, আমার পছন্দের কেউ থাকলে আগে তুমি জানতে। আজ পর্যন্ত কোনো কথা কী তোমার থেকে লুকিয়েছি? সব কথা-ই তো আগে তোমার সাথে শেয়ার করি।
ছেলেঃ হ্যাঁ তা তো বলো। কিন্তু মনে হচ্ছে তুমি কিছু একটা আমার থেকে লোকাচ্ছ।
মেয়েঃ আরে কী লুকাবো, কিছু না। তুমি দোয়া করো শুক্রবারে যেন ছেলে পক্ষ আমাকে পছন্দ না করে।
ছেলেঃ অপছন্দ করার মতো মেয়ে নাকি তুমি? আমি হলে তো দেখতে গিয়েই বিয়ে করে নিতাম।
মেয়েঃ তাই না! এতো শখ বিয়ে করার?
ছেলেঃ হ্যাঁ বয়স তো আর কম হলো না, বিয়ে তো করতেই হবে। দেখি, ভালো মেয়ে পেলে তাড়াতাড়ি করে ফেলবো।
মেয়েঃ সত্যি!! তা কেমন মেয়ে পছন্দ? আমার মতো নিশ্চয়!
ছেলেঃ ধুর! তোমার মতো হতে যাবে কেন। আমার তো শান্ত, নম্র, সুশীল, সুন্দরী একটা বউ চাই।
মেয়েঃ ওহ তার মানে আমি শান্ত, নম্র, সুশীল, সুন্দরী নই? ভালো দোয়া করি একটা ডাইনির সাথে তোমার বিয়ে হোক।
ছেলেঃ ডাইনি! সে তো তুমি। আর আমি সারাজীবন বিয়ে না করে থাকলেও তোমার মতো ডাইনি কে বিয়ে করবো না।
মেয়েঃ হুহ, আমি তো বসে আছি তোমাকে বিয়ে করার জন্য। আচ্ছা রাখছি, পরে কথা হবে।
ছেলেঃ ওকে, শুক্রবার ভালো করে সাজুগুজু করো। তাহলে বিয়ে পাক্কা।
মেয়েঃ ধুর....বাই।

আজ শুক্রবার।
সকাল দুপুর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলো, মেয়েটার কোনো খোঁজ নেই। অনলাইনে আসে না আবার কল ও করছে না। কী হলো ওর, কিছুই তো জানতে পারলাম না। (ছেলেটা মনে মনে এসব ভাবছে)
ছেলেটা না পেরে কল করে....রিসিভ করতেই কান্নার শব্দ। (চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ষষ্ঠ পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
ষষ্ঠ পর্ব
মেয়েঃ হ্যাঁ সমস্যা কী? বারবার বলা স্বত্ত্বেও কল দিচ্ছো কেন? আমি আর তোমার সাথে কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক রাখতে চাই না। প্লিজ আমাকে আর কখনো কোনোভাবে যোগাযোগ বা খোঁজার চেষ্টা করবে না। এটা বলে আমি কলটা কেটে দেই।
ছেলেঃ তাকে কিছু বলার সুযোগ তো দিবেন??
মেয়েঃ ওর মতো প্রতারক, মিথ্যুক কে কী বলার সুযোগ দিবো?
ছেলেঃ শুনতেন কী বলতে চাই।।।
মেয়েঃ হ্যাঁ শুনেছিলাম, আবারও কল করলে বললাম বলেন আপনি কী বলতে চান!
- স্মৃতি তুমি আপনি করে বলছো কেন?
- এতো ন্যাকামি না করে আপনার যা বলার বলেন। না হলে কল কেটে দিচ্ছি।
- আসলে ওর সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো, এখন নেই। ও আমাকে ভালোবাসে এজন্য তোমাকে ওসব বলেছে। আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
- আর কিছু???
- বিশ্বাস করো আমি ওকে না তোমাকেই মন থেকে ভালোবাসি আর তোমাকেই সারাজীবন বাসতে চাই।
- তাই?? এই কথা আর কয়জনকে বলেছেন? আপনি শান্তা কেও তো বিয়ে করবেন এ কথা বলে ওর সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করেছেন। একবারও ভাবলেন না, যে মেয়েটা আপনাকে এতোটা বিশ্বাস করে ভালোবেসে তার সর্বস্ব আপনাকে দিতে দ্বিধা করে নি; আজ তাকে বলছেন ভালোবাসেন না! আমাকে ভালোবাসেন? 
- আরে কী বলছো এসব! ওর সাথে আমার কিছুই হয় নি। আমাদের তো তেমন দেখাই হতো না।
- সোহাগ, যথেষ্ট হয়েছে! আর মিথ্যা বলো না। কতো মেয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে তুমি তাদের জীবন নষ্ট করেছ আল্লাহ ভালো জানেন। আমার সাথে এমন মিথ্যা প্রতারণা না করলেই পারতে। গুড বাই।।
এরপর আমি ওকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দেয় যাতে ও আমার সাথে যোগাযোগ না করতে পারে।
ছেলেঃ গত কয়েকদিনে এতো কিছু ঘটে গেলো আর আমি কিছুই জানলাম না?
মেয়েঃ এই কথাগুলো আপনার সাথে শেয়ার করার জন্য সেদিন রাতে ওতবার কল দিছিলাম। অনেকক্ষণ অপেক্ষাও করেছিলাম, কিন্তু আপনি অনলাইনে আসছিলেন না।
ছেলেঃ আসলে কী বলবো! আমি যদি জানতাম তাহলে তো ঠিকই আসতাম। অন্যদিন সারাক্ষণই অনলাইনে থাকি, অথচ সেদিন কেন যে আসছিলাম না!
মেয়েঃ আমার তখন কথাগুলো শেয়ার করার কেউ ছিলো না। কাকে বলবো, কী করবো! কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। শুধু কাঁদছিলাম আর ভাবছিলাম এমন একজন মিথ্যুক, প্রতারককে কেন ভালোবাসছিলাম! নিজের প্রতি ঘেন্না হচ্ছিলো, নিজেকে একটুও কন্ট্রোল করতে পারিনি। এজন্য সুইসাইড করতে চেয়েছিলাম। আর আম্মুর সবগুলো ঘুমের ওষুধ একসাথে খেয়েছিলাম।
ছেলেঃ আমি যদি সেদিন অনলাইনে আসতাম হয়তো এমন হতো না। কেন এমন পাগলামি করলেন? কার জন্য নিজের জীবন দিতে চাচ্ছিলেন? যে আপনার সাথে প্রতারণা করেছে অন্য একটা মেয়ের সতীত্ব নষ্ট করেছে, তার জন্য???
মেয়েঃ হ্যাঁ সেটা তো এখন বুঝতেছি, ওর মতো ছেলের জন্য আমি কেন আমার জীবন দিবো। কিন্তু তখন ওই সিচুয়েশনে কী করা উচিত আমার মাথায় আসে নি। তাই ওমন পাগলামি করেছিলাম। জীবনে এমন ভুল আর দ্বিতীয় বার করতে চাই না।
ছেলেঃ হুম সেটাই ভালো হবে। এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।
মেয়েঃ হ্যাঁ, অন্য কথা বলুন। আমি ওই প্রসঙ্গে আর কোনো কথা বলতে বা শুনতে চাই না। সবকিছু ভুলে যেতে চাই।
ছেলেঃ হুম। তা আপনার শরীর এখন কেমন? ঠিকমতো খাচ্ছেন তো? কোনো কিছুতে অনিয়ম করবেন না।
মেয়েঃ শরীর এখন মোটামুটি সুস্থ, আর ঠিকমতো খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি। আম্মু এখন অনেক যত্ন নিচ্ছেন।
ছেলেঃ আচ্ছা এখন বাই।। পরে কথা হবে। নিজের যত্ন নিবেন।
মেয়েঃ ওকে, আপনিও।

এমনভাবে কয়েকমাস অতিবাহিত হয়ে গেলো। এরা দু'জন প্রতিনিয়ত কথা বলতে থাকে। নিজেদের মধ্যে ভালো একটা বোঝাবুঝির সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা দু'জন দুজনের সাথে সব কথা-ই শেয়ার করে। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে মেয়েটার ভিতর চিন্তা ততই বাড়ছে....(চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ৫ম পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
৫ম পর্ব

মেয়েঃ ও আমার সাথে চিট করেছে, আমাকে ঠকিয়েছে।। আমার সাথে এতো দিন মিথ্যে প্রেমের অভিনয় করেছে।
ছেলেঃ হুম ঘটনা তাহলে এখানে! তা আপনি কীভাবে জানলেন?
মেয়েঃ আমি এতোদিন একটুও বুঝতে পারিনি যে ও আমার সাথে টাইম পাস করে যাচ্ছে। ওকে কতোবার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিতে বলেছি কিন্তু ও কিছুতেই রাজি হয় নি। আমাকে নানাভাবে বুঝিয়ে এই কথা এড়িয়ে গেছে। আর আমাকে এ-ও বলেছিলো আমি যেন ওর কোনো পোস্ট এ কমেন্ট না করি। আমিও ওর কথা শুনে চুপ ছিলাম।
ছেলেঃ হ্যাঁ তারপর কী হলো?
মেয়েঃ তারপর সেদিন রাতে মানে যেই রাতে আমি সুইসাইড এটেন্ড করেছিলাম সেই রাতে আমি ওর ছবিতে কিছু না ভেবেই কমেন্ট করি "আমার জান'টাকে সেই লাগছে" ও তখন অনলাইনে ছিলো না।
ছেলেঃ আপনাকে না কমেন্ট করতে নিষেধ করেছিলো?
মেয়েঃ হ্যাঁ নিষেধ করেছিলো, কিন্তু আমি ওইদিন এমনিতেই ইচ্ছা করে কমেন্ট করেছিলাম। তবে এই কমেন্ট করাতে যে এতো কিছু হবে কখনো ভাবতেই পারিনি।
ছেলেঃ এতো কিছু কী!
মেয়েঃ কমেন্ট করার প্রায় ২০ মিনিট পর আমার ইনবক্সে একটা মেসেজ রিকুয়েষ্ট আসে। আমি দেখলাম শান্তা নামের একটা মেয়ে এবং আমাকে লিখেছে 'কে আপনি'?
আমি ভাবলাম আজব তো আমাকে আগে মেসেজ দিয়ে আমাকেই জিজ্ঞাসা করছে কে আমি?
একটু হাসলাম তারপর রিকুয়েষ্ট এক্সেপ্ট করে রিপ্লাই করলাম।
ছেলেঃ তারপর, তারপর কী হলো?
মেয়েঃ আম্মু ডাকছে, পরে এসে বলবো; এখন বাই

কিছুক্ষণ পর মেয়েটা আবার অনলাইনে আসে। এসেই ছেলেটাকে মেসেজ দেয়।
মেয়েঃ ওই হ্যালো, কী করেন?
ছেলেঃ কিছু না, আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। বলুন এবার....
মেয়েঃ তারপর সেই মেয়েটাকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কে? বললে ওই মেয়েটা (শান্তা) রিপ্লাই দিলো আমি যেই হই সেটা পরে জানবেন। আগে বলেন 'সোহাগ' আপনার কী হয়?
আমি তো রীতিমতো শুনে অবাক এই মেয়ে আবার কে! সোহাগ কে কীভাবে চেনে আর আমাকেই বা কেন মেসেজ দিলো। অনেক প্রশ্ন মাথার ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছিলো।
ছেলেঃ হ্যাঁ সেটাই স্বাভাবিক। তারপর?
মেয়েঃ তারপর আমি সোজাসাপটা বলে দিলাম সোহাগ আমার বয়ফ্রেন্ড। মেয়েটা এই মেসেজ দেখে সাথে সাথে মেসেঞ্জারে কল দিলো। আমি রিসিভ করতেই আমাকে বললো, আপনি কবে থেকে সোহাগের গার্লফ্রেন্ড? সোহাগের গার্লফ্রেন্ড তো আমি। এ কথা শুনে তো আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হলো। আমি বললাম এটা অসম্ভব, ও অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথাই বলে না আর গার্লফ্রেন্ড তো অনেক পরের কথা। মেয়েটা (শান্তা) বললো, আপু আপনাকে কী বলবো ওর সাথে আমার প্রায় দুই বছরের সম্পর্ক। আমাদের সম্পর্ক অনেক গভীরে কী আর বলবো! ও আমাকে বিয়ে করবে বলছে ২ বছরের মধ্যে। আমি তার কথা বিশ্বাস করতে চাইলাম না।
তখন মেয়েটা বললো আপু ও আমাদের দুজনের সাথেই চিট করেছে, ঠকিয়েছে৷ আপনি তো আমার কথা বিশ্বাস করছেন না, ওয়েট আপনাকে প্রমাণ দিচ্ছি।
ছেলেঃ তারপর, কী প্রমাণ দিছিলো?
মেয়েঃ তারপর মেয়েটা (শান্তা) তাদের কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দিলো, তাদের মেসেঞ্জারের সব কথোপকথন এর স্ক্রিনশট দিলো। আমি ওগুলো দেখে হতবাক হয়ে যায়। কী বলবো, কী করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। মেয়েটা (শান্তা) আবার মেসেজ দিলো, এবার বিশ্বাস হয়েছে? আমি বললাম "হ্যাঁ" কিন্তু ও এমনটা কীভাবে করতে পারলো। আমার মাথায় কাজ করছে না, কাকে ভালো বাসলাম! কার সাথে সারাজীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলাম! আমি কান্না শুরু করলাম। মেয়েটাও (শান্তা) কাঁদতে কাঁদতে বললো আমাদের দুজনের সাথে এমন করেছে এর জবাব ওকে দিতেই হবে। তারপর কল কেটে দেয়।
ছেলেঃ কী সাংঘাতিক ঘটনা। দেখলেন তো আপনার ভদ্র, শান্ত, নম্র ছেলের আসল চেহারা?
মেয়েঃ সত্যিই কাউকে এতো সহজে চেনা যায় না। আমি ওকে এতো অল্পতে বিশ্বাস করে ভুল করেছি।
ছেলেঃ তারপর কী করলেন?
মেয়েঃ তারপর রাতে ও অনলাইনে আসে, এসেই আমাকে কল দেয়। কল রিসিভ করতেই বলছে, স্মৃতি তুমি ওর কথা বিশ্বাস করো না। ওর সাথে আমার কিছুই নেই। ও তোমাকে যা বলেছে সব মিথ্যা সব বানিয়ে বানিয়ে বলেছে। আমি চুপ করে শুধু শুনছি আর বুঝলাম যে ওই মেয়েটা (শান্তা) এতোক্ষণে ওকে সব বলেছে আর ওদের মাঝে হয়তো অনেক কিছু হয়েছে।
এরপর সোহাগ বলছে, কী হলো কথা বলো না কেন? আমাকে বিশ্বাস করো আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি। আমি ওর কথা শুনে হতবাক হচ্ছি কীভাবে একটা মানুষ এতোটা মিথ্যুক, প্রতারক হতে পারে। এখনো অনবরত মিথ্যা বলেই চলেছে। আমি তখন বললাম, শান্তার সঙ্গে তোমার কিছু নেই? বললো, না নেই। আমি বললাম এগুলো কী? তাই বলে ইনবক্সে সেই ছবিগুলো পাঠালাম। ও ছবিগুলো দেখার পরও অস্বীকার করেই চললো। বলছে এই ছবিগুলো এডিট করা। ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্কই নেই। "মিথ্যার একটা লিমিট থাকে"-আমি বললাম।
তারপর বললো স্মৃতি আমি তোমাকে সব খুলে বলছি। আসলে ও আমার ক্লাসমেট, আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম। এ ছাড়া কিছুই না....ছিঃ সোহাগ ছিঃ এখনো মিথ্যা বলছো। আমার ঘেন্না হচ্ছে তোমার সাথে কথা বলতে। বলে আমি কলটা কেটে দেয়।
ছেলেঃ তারপর কী করলেন?
মেয়েঃ তারপর ও আমাকে অনেকবার কল দিলো আমি কেটে কেটে দিচ্ছিলাম। এরপর রিসিভ করলাম।। হ্যাঁ সমস্যা কী??? (চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ৪র্থ পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
৪র্থ পর্ব
মেয়েঃ আমি সুইসাইড এটেন্ড করেছিলাম, অনেকগুলো ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছিলাম। তারপর বাসার সবাই আমাকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। ৩ দিন ছিলাম সেখানে।
ছেলেঃ এখন কেমন আছেন?
মেয়েঃ জ্বি এখন মোটামুটি সুস্থ। আপনার কী খবর?
ছেলেঃ আমার খবর পরে বলছি‌, আগে ঘটনা সব খুলে বলো।
মেয়েঃ কল দি??
ছেলেঃ হ্যাঁ সেটাই ভালো হবে, সব মেসেজ এ লিখে বলা বা বোঝানো যায় না।
(মেয়েটা কল দিলো ছেলেটা রিসিভ করলো।)
ছেলেঃ হ্যালো, শুনতে পাচ্ছেন?
মেয়েঃ হ্যাঁ পাচ্ছি, আপনি?
ছেলেঃ হ্যাঁ আমিও পাচ্ছি, এবার বলেন কী ঘটনা!
মেয়েঃ আসলে কী বলবো ভাইয়া, লাস্ট আপনার সাথে যখন কথা হয়েছিলো তখন বলেছিলাম না আমাদের মাঝে একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে?
ছেলেঃ হ্যাঁ বলেছিলেন যে পরে বলবেন।
মেয়েঃ ওইতো, ঝামেলা বলেন আর সন্দেহ বলেন সেটা ছিলেন আপনি।
ছেলেঃ কী! আমি?
মেয়েঃ হ্যাঁ, ও আপনাকে সহ্য করতে পারতো না। ও আমাকে আপনার সাথে কথা বলা তো দূরে থাক যোগাযোগ করতেও নিষেধ করেছিলো। কিন্তু আমি ওর কথা শুনিনি, আমি ওকে বলেছিলাম যে আপনি আমার খুব ভালো ফ্রেন্ড। আপনার সাথে অনেক আগে থেকে পরিচয়, আমার সব কথা শেয়ার করি। কিন্তু ও আমাকে আর আপনাকে নিয়ে অনেক বাজে বাজে কথা বলেছিলো।
ছেলেঃ এসব কথা আগে বলেন নি কেন? বললে তো আমি আপনার সাথে যোগাযোগ রাখতাম না। শুধু শুধু আমার জন্য আপনাদের সম্পর্কটা নষ্ট হবে কেন! (ছেলেটা নিজেকে অপরাধী মনে করে।)
মেয়েঃ কেন ওর সবকথা আমার শুনতে হবে? রিলেশন করেছি বলে কী আমার কোনো বন্ধু থাকতে পারবে না? আমার কোনো স্বাধীনতা নেই?
ছেলেঃ সব ঠিক আছে, কিন্তু আমার কারণে আপনাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে, আপনি সুইসাইড এটেন্ড করেছিলেন...যদি কিছু হয়ে যেতো! আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারতাম না (একথা বলেই ছেলেটা কল কেটে দিলো....

মেয়েটা আবার কল দিলো ছেলেটা রিসিভ করলো।
মেয়েঃ হ্যালো, কী ব্যাপার! আপনি কল কাটলেন কেন? আর নিজেকে অপরাধী ভাবছেন কেন? আপনার জন্য আমি এসব করিনি। আরো অনেক কারণ আছে।
ছেলেঃ আমার জন্যই তো, অন্য আবার কী কারণ?
মেয়েঃ ও আমাকে যেসব নোংরা কথা বলেছে তা হয়তো কেউ তার ভালোবাসার মানুষকে বলে না। আমাকে তুই তুকারি করে কথা বলে, বলে তোর কয়টা লাগে? আমাকে দিয়ে তোর হয় না? আমি থাকতে তোর ওই ছেলের সাথে কিসের কথা? আরো অনেক বাজে বাজে কথা বলেছে যা আমি আপনাকে বলতে পারবো না। (মেয়েটা বলতে গিয়ে কান্না করে ফেললো।)
ছেলেঃ আরে কাঁদছেন কেন, প্লিজ কাঁদবেন না!
মেয়েঃ না কাঁদছি না, কার জন্য কাঁদবো? ও আমাকে বলে আমি নাকি নষ্ট মেয়ে! আমি নাকি সব ছেলেদের সাথে প্রেমের অভিনয় করি, সবার জীবন নষ্ট করি, একজনে আমার নাকি.... ছি এতো নোংরা মানসিকতা ওর। আমার ভবতেই ঘেন্না হচ্ছে যে ওর মতো ছেলেকে ভালোবেসেছিলাম, ওকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছিলাম।
ছেলেঃ এই সিচুয়েশনে আমার কী বলা উচিত বুঝতে পারছি না। আমি প্রথমেই আপনাকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আপনি বললেন ছেলেটা অনেক ভালো, ভদ্র, ইনোসেন্ট। তাই আর কিছু বলিনি।
মেয়েঃ আমি তো বুঝতে পারিনি।
ছেলেঃ এটাই তো বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল। কিছু না জেনে, যাচাই বাছাই না করে দুদিন ফেসবুকে কথা বলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলি। একবারও ভাবি না যে সে মানুষ হিসেবে কেমন! ফেসবুকে যেমন নিজেকে দেখাই আদৌও কী সে বাস্তবে এমন? এমন প্রশ্নের উত্তর কখনো খুঁজে দেখি না। যার শেষ পরিণতি অনেক খারাপ হয়, সম্পর্ক তো স্থায়ী হয়ই না বরং কারো কারো জীবন নষ্ট হয়ে যায়। একটু যারা বেশি আবেগী হয় তারা অল্পতেই গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে যায়, পরে হয় সুইসাইড করে না হয় সারাজীবন বুকে কষ্ট দাবিয়ে অর্ধমৃত বেঁচে থাকে।
(কলটা কেটে যায়।)

প্রায় ২০ মিনিট পরে মেয়েটা আবার কল করে।
ছেলেঃ হ্যালো।
মেয়েঃ হ্যালো।। আম্মু আসছিলো আমাকে ওষুধ খাওয়াতে তাই কেটে দিছিলাম।
ছেলেঃ ঠিক আছে। তা আমাকে ওতবার কল কেন দিছিলেন???
মেয়েঃ সুইসাইড করার আগে আপনাকে সব বলতে চেয়েছিলাম।
ছেলেঃ কি বলতে চেয়েছিলেন?
মেয়েঃ ওহ আমার সাথে চিট করেছে, আমাকে ঠকিয়েছে।। আমার সাথে......(চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ৩য় পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
৩য় পর্ব

ছেলেটা কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কান্নার শব্দ। মেয়েটা কিছু না বলে অঝোরে কেঁদেই চলেছে। ছেলেটা কিছুই বুঝতে পারছে না কি হলো তার। ছেলেটা বলা শুরু,, আরে কী হয়েছে? আপনি কাঁদছেন কেন? আমাকে বলেন, কান্না থামান প্লিজ।।
মেয়েঃ কান্না কণ্ঠে, আমাকে মাফ করে দিয়েন ভাইয়া।
ছেলেঃ মাফ চাচ্ছেন কেন? আপনি তো আমার কাছে কোনো অন্যায় করেন নি। আর আমার আপনার ওপর কোনো রাগ বা অভিযোগও নেই।
মেয়েঃ আপনি আমাকে মাফ করে দিয়েন। আমি আইডি ডিএক্টিভ করছি আর কোনোদিন কথা হবে না।
ছেলেঃ আজব তো! কী হয়েছে সেটা আগে বলুন। কান্না থামান, আগে সব খুলে বলুন। তারপর যা করার করবেন।
মেয়েঃ ভাইয়া আমি সুইসাইড করবো, আমি আর বাঁচতে চাই না। (বলেই আবার কান্না শুরু)
ছেলেঃ কী!!!!! আপনার মাথা ঠিক আছে? কী সব বলছেন, কী এমন হয়েছে যে আত্মহত্যা করতে হবে?
মেয়েঃ আমি সোহাগ কে ছাড়া বাঁঁচবো না,😭😭 আমি ওকেই চাই😭😭
ছেলেঃ বাঁচা মরা পরে দেখা যাবে, এই সোহাগ আবার কে?
মেয়েঃ আমার বয়ফ্রেন্ড, ওর নাম সোহাগ।
ছেলেঃ ওহ বুঝলাম! তা আপনাকে কী এখন আদর সোহাগ করছে না? ঝগড়া হয়েছে?
মেয়েঃ ভাইয়া,, বলে মেয়েটা হালকা হেসে ফেললো। মানে কাঁদতে কাঁদতে হাসলে যেমন হয় আর কী।
ছেলেঃ এই তো লক্ষী মেয়ে। এতো সুন্দর পরীর মতো মেয়ে কাঁদলে মানায় নাকি!
মেয়েঃ ভাইয়া,, আমি লক্ষী ও না পরী ও না। আমি স্মৃতি।
ছেলেঃ হ্যাঁ জানি তো..... (শুনার আগেই মেয়েটা কল কেটে দিলো।)
ছেলেটা ভাবে হয়তো নেটওয়ার্ক প্রবলেম, তাই কলটা কেটে গেছে। সে আবার কল দিয়ে এনাদার কল পেলো। (অন্য কারো সাথে কথা বলছে।)
ছেলেটা মেয়েটাকে নিয়ে ভাবছে, 🤔 মেয়েটা অনেক সহজ সরল। মনে যা আসে তাই বলে ফেলে, কে কী ভাবলো কিছুই ভাবে না৷ অনেক আবেগী, জানি না কোন ছেলের খপ্পরে পড়েছে। কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে যেন। (মনে মনে এগুলো ভাবছে তখনই মেসেঞ্জারে মেয়েটার কল।)
ছেলেঃ রিসিভ করে হ্যালো।
মেয়েঃ সরি সরি সরি ভাইয়া প্লিজ কিছু মনে করেন না।
ছেলেঃ আচ্ছা হয়েছে এতো সরি বলতে হবে না। (মেয়েটা এখন অনেক খুশি মনে হচ্ছে।)
মেয়েঃ আসলে ভাইয়া সোহাগ কল দিছিলো, এজন্য আপনার কল কেটে দিছিলাম।
ছেলেঃ হ্যাঁ ওটা না বললেও বুঝেছি, এজন্য এতো খুশি। তা কারণ কী! একটু আগে মরে যাবো বলে কান্না জুড়েছিলেন, এখন হাসির রহস্যটা কী বলা যাবে?
মেয়েঃ অন্য কোনোদিন বলবো। এখন শুধু এইটুকু জেনে রাখেন ওর সাথে ঝামেলা হয়েছিলো একটা বিষয় নিয়ে এখন কল করে সরি বললো, অনেক মাফ চাইলো তারপর মাফ করে দিছি☺☺☺
ছেলেঃ ওহ আচ্ছা।
মেয়েঃ আচ্ছা ভাইয়া এখন বাই,, ও আবার কল দিচ্ছে। এনাদার কল পেলে আবার প্রবলেম হবে। (বলেই কলটা কেটে দিলো।)
ছেলেটা ভাবছে কী অদ্ভুত স্বভাবের হয় মেয়েরা! এই কিছুক্ষণ আগেও কষ্টে সুইসাইড করবে বলছিলো আবার এখনই সব ভুলে হাসছে। ☺ আসলে মেয়েদের খুশি করতে বা হতে খুব বেশি কিছু লাগে না। (এসব মনে মনে ভাবছে আর হাসছে ছেলেটা।)
তবে ছেলেটা বুঝতে পারে হয়তো তার সাথে কথা বলে বলে মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে ঝামেলা হচ্ছে। সে হয়তো কথা বলা পছন্দ করে না, এসবই হবে তাই আমাকে বললো না। (ছেলেটা অফলাইনে চলে যায়।)
পরেরদিন অনলাইনে এসে দেখে মেয়েটার অনেকগুলো এসএমএস কল। আর দেখে মেয়েটা ৬ ঘণ্টা আগে এক্টিভ ছিলো। কি জন্য এতোবার কল দিছিলো! খুব টেনশনে পড়ে ছেলেটা। মেয়েটির ফোন নাম্বার বা অন্যকোনো উপায়ও নেই যোগাযোগের। সকাল, দুপুর, রাত পেরিয়ে এলো কিন্তু মেয়েটা আর অনলাইনে আসে না। ছেলেটা নিজেকে অনেক দোষী মনে করতে থাকে। কেন তখন অনলাইনে ছিলাম না! কেন ওনার কল মেসেজ দেখতে পারলাম না! কী বলতে চেয়েছিলো আমাকে? (এসব মনে মনে ভাবছে।)
এভাবে ৩ দিন পার হয়ে গেলো মেয়েটা অনলাইনে আসে না আর কোনো খোঁজও নেই। হঠাৎ মেয়েটার নামের পাশে সবুজ বাতি দেখেই ছেলেটা কল দিলো....মেয়েটা সাথে সাথেই রিসিভ করলো
মেয়েঃ হ্যালো..
ছেলেঃ হ্যালো..আপনি কোথায় ছিলেন? অনলাইনে আসেন নি কেন? কী হয়েছিলো আপনার? আমাকে ওতবার কল দিছেলেন কেন????
মেয়েঃ এতো প্রশ্ন একবারে?? আমি হাসপাতালে ছিলাম...
ছেলেঃ কী!!!!!! হাসপাতালে কেন?? (চলবে...)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

সোমবার, ১১ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ২য় পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
মেয়েটা আবার অনলাইনে আসে। অনেকক্ষণ পর ছেলেটা নক করলো...
ছেলেঃ কী ব্যাপার! ব্রেকআপ এর পর ফেসবুকে কী!
মেয়েঃ আবার ঠিক হয়ে গেছে
ছেলেঃ কী! সকালে বললেন আমার জন্য ব্রেকআপ হয়ে গেছে, আর এখন বলছেন ঠিক হয়ে গেছে???
মেয়েঃ হ্যাঁ, ও ফোন করে মাফ চাইলো; আমাকে অনলাইনে আসতে বললো। সেজন্যেই এসেছি না হলে আসতাম না।
ছেলেঃ ওহ ভালো তো প্রেম করতেও সময় লাগে না, ব্রেকআপ করতেও সময় লাগে না; আবার জোড়া লাগতেও সময় লাগে না। হায়রে ভালোবাসা!!
মেয়েঃ হুম।
ছেলেঃ তা কি ভেবে আবার শুরু করলেন?
মেয়েঃ আমি ওরেই বিয়ে করবো।
ছেলেঃ হাহা রিএক্ট দিয়ে বললো, ক্যাম্নে পসিবল?  পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করবেন??
মেয়েঃ নাহ, ছোট বেলায় ভাবতাম। এখনও ভাবি পরিবারের পছন্দ করা পোলা রে যদি বিয়ে করতে হয়, তো উনারে সব জানাবো যে পালিয়ে বিবাহ করার ইচ্ছা ছিলো খুব, তারপর  উনি রাজি থাকলে উনার সাথে ভাইগা যাবো।।।
ছেলেঃ ছেলে দুইটা ইমোজি পাঠিয়ে অফলাইনে চলে যায়।

আবার রাতে তাদের কথা হয়।। ছেলেটা জিজ্ঞাসা করে, কী! প্রেম কেমন চলছে???
মেয়েটা স্ক্রিনশট দেয়, এই দেখেন মাত্র কথা হলো।
ছেলেটা দেখলো তাদের মাঝে ঝগড়া শুরু, ঝগড়ার কারণ মেয়েটা দেরিতে রিপ্লাই দেয় সেজন্য।
এই দেখে সেই ছেলেটা আবার হাসে।। হাহা ইমোজি পাঠায়।
মেয়েটা রাগের ইমোজি দেয়, ছেলেটা বলে রাগ করছেন কেন? সাত দিনের ভালোবাসায় কী সন্দেহ! একে কী ভালোবাসা বলে?
মেয়েটা বললোঃ এতো পিনিক দেন কেন?
ছেলেঃ ভালো লাগে তাই।।
মেয়েঃ রিলেশন টা ও ধরে রাখছে আমি না। একটু পরে এসেই বলবে টুনটুনি কই তুমি
ছেলেঃ টুনটুনি?? ভালোই নাম দিছে টুনটুনি
মেয়েঃ হুম
ছেলেঃ আর একটা সম্পর্ক একজন ধরে বা টিকিয়ে রাখতে পারে না, উভয়ের চেষ্টা ও ভালোবাসা থাকতে হয়।
মেয়েঃ আমি ওরে বিয়া করুম। ও আমার কাছে ৩ বছর সময় চেয়েছে। ৩ বছর পরে বিয়ে করবে।
ছেলেঃ বাহ! ভালো তো। কিন্তু আপনার পরিবার কী ৩ বছর অপেক্ষা করবে?
মেয়েঃ নাহ! আমার ভাইয়া যদি আজকে বিয়ে করে তাহলে কালকে আমার বিয়ে।
ছেলেঃ হাহা রিএক্ট দিয়ে ছেলেটা আবার অফলাইনে চলে যায়।

আবারও ছেলেটা মেয়েটাকে নক দিলো। এই যে ম্যাডাম কী খবর?
মেয়েঃ ভালো না।
ছেলেঃ কেন? কী হয়েছে!
মেয়েঃ বফের লগে ঝগড়া হইছিলো সেই আকারে, সে বললো আর কথা বলবে না, তারপর ভাবলাম আজাইরা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার অ্যাপস্ রেখে লাভ নেই, তাই সব আনইন্সটল করছিলাম।
ছেলেঃ তারপর!
মেয়েঃ আজ সকালে কল দিয়ে বললেন ফেবুতে আসেন, বললাম সব আনইন্সটল করছি, তারপর এম্বি উঠাই দিয়ে বলে আবার ইন্সটল করো আর ফেবুতে আসেন।
ছেলেঃ হুম
মেয়েঃ হুদাই টাকা নষ্ট কইরা ডাকলো ফেবুতে। আবার হারায় যামু গা।।
ছেলেঃ বুঝলাম। তা এক সপ্তাহের প্রেমে ঝগড়া হয় কী নিয়ে??
মেয়েঃ আমার পোষ্টে কেউ লাভ রিয়েক্ট দিলে জ্বলে❤  রিপ্লাই এ লেট করলে জ্বলে....
ছেলেঃ এতো যার জ্বলে
তার সাথে কি প্রেম চলে??
তাকে কী ভালোবাসা বলে?
মেয়েঃ তা কী বলে?
ছেলেঃ আলগা পিরিত  এটা বলাতেই মেয়েটা রেগে যায় আর  ইমোজি পাঠায়।।
ছেলেটা ভাবে এই বেশি হয়ে গেলো নাকি! তৎক্ষনাৎ মেয়েটা আবার মেসেজ দিলো...
মেয়েঃ একটা সুন্দর নাম দেন☺
ছেলেঃ হুম দিবো, ভেবে দেখি 

কিছুক্ষণ পর মেয়েটার মেসেজ...কল দিবো????
ছেলেটা অবাক... হঠাৎ কল... কাহিনী কী!
ছেলেঃ হ্যাঁ দেন......(চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

রবিবার, ১০ মে, ২০২০

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? ১ম পর্ব ~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
১ম পর্ব

মেয়েটা ইন্টারমিডিয়েট পড়ে। খুব চটপটে স্বভাবের, সবসময় হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করে৷ লেখাপড়া, ঘুরাঘুরি এগুলো নিয়েই হেসে খেলে কাটে তার দিন। হঠাৎ লকডাউনে মেয়েটার সব আনন্দ যেন এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। আগের মতো আর কোথাও যেতে পারে না। কলেজ, কোচিং সব-ই বন্ধ। সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটা দিন দিন কেমন উদাসীন আর মনমরা হয়ে যেতে থাকে। তো এমন দেখে তার বড়ো ভাই ফেসবুকে একটা একাউন্ট খুলে দিয়ে বললো, 'এখন থেকে বোরিং লাগলে ফেসবুক ব্যবহার করবি, ভালো লাগবে। মেয়েটার ভাই কয়েকটি বিনোদন পেইজ, গ্রুপে জয়েন করিয়ে দিলো। টুকটাক ধারণা দিলো ফেসবুক ব্যবহার সম্পর্কে।

এরপর থেকে মেয়েটার বোরিং লাগলে ফেসবুকে আসত, ভালোই সময় কাটতো। বেশকিছু নতুন বন্ধুও হয়েছে, কয়েকজনের সাথে টুকটাক কথা বলে। এক ছেলের সাথে বেশকিছু দিন কথা বলতে বলতে ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হঠাৎ একদিন ছেলেটা মেয়েটাকে প্রপোজ করে। মেয়েটা তার কিছু বান্ধবীর মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছিল ছেলেটা অনেক ভালো, ভদ্র। ছেলেটা অনার্স ২য় বর্ষে পড়ে। তাই মেয়েটাও কোনো কিছু না ভেবেই হ্যাঁ বলে দেয়।
এভাবে দুইমাস পার হয়ে যায়, তারা মেসেঞ্জারে অডিও/ভিডিও কলে কথা বলতো।

ছেলেটা মেয়েটাকে অনেক ভালোবাসে, বিয়ে করতে চায়। এমন অনেক স্বপ্ন দেখে এবং মেয়েটাকেও দেখায়। মেয়েটাকে তার জন্য অপেক্ষা করতে বলে। কিন্তু এদিকে মেয়ের পরিবার এখন থেকেই ছেলে খুঁজতে শুরু করেছে। তাদের ইচ্ছা মেয়ে ইন্টার পাশ করলে বিয়ে দিয়ে দেবে। মেয়েটা এই কথা ছেলেটাকে জানিয়ে দেয়। আর মেয়েটা তার পরিবারের কথা ফেলতে পারবে না। পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে নিজের পরিবারকে সমাজের কাছে ছোটো করতে পারবে না। (স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়।)

মেয়েটার মেসেঞ্জারে আরেকজন ছেলের সাথে কথা হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে সে তার বিএফ এর টপিক ওঠায়। তখন মেয়েটা তার বিএফ সম্পর্কে সেই ছেলেটাকে বলে। এখন অনার্স ২য় বর্ষে পড়ে, অনেক ভালো, ভদ্র, আমাকে খুব ভালোবাসে এসব সবই বললো। তো সেই ছেলেটা সব শুনে হাসির ইমোজি দিয়ে বললো রাগ করেন না! কিছু কথা বলছি মন দিয়ে শোনেন। (ফ্রি উপদেশ দিবে আর কী!)

আপনি তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন, সেও আপনাকে বিয়ে করতে চাচ্ছে৷ খুব ভালো কথা! কিন্তু এটা কী বাস্তবে সম্ভব হবে??? মেয়েটা উত্তর দিলো কেন হবে না? ও তো আমাকে বলেছে বিয়ে করবে। এ কথা শুনে ছেলেটা আবার বলা শুরু করল....
আপনার বিএফ এখন অনার্স ২য় বর্ষে পড়ে। এখনো ২ বছর পর অনার্স ৪র্থ বর্ষে উঠবে। পরীক্ষা হবে, রেজাল্ট দিবে, এসব মিলিয়ে অনার্স শেষ করতে তার প্রায় ৩ বছর লেগেই যাবে।
মেয়েটা বললো 'হ্যাঁ তা তাই লাগবেই'
ছেলেটা তখন বললো সে অনার্স শেষ করলেই কী আপনাকে বিয়ে করতে পারবে?? তার একটা চাকরি খুঁজে এস্টাব্লিশ হতে তো হবে, তাই না?? চাকরি পাওয়ার পর-ই সে তার পরিবারকে জানাতে বা বলতে পারবে, এর আগে না। ধরলাম আরও ২ বছর লাগবে চাকরি খুঁজে নিজেকে প্রস্তুত করতে৷ সব মিলিয়ে ৫ বছরের আগে সে আপনাকে চাইলেও কী পাবে? আর আপনার পরিবার কী ৫ বছর অপেক্ষা করবে??
মেয়েটা বললো 'এভাবে তো ভেবে দেখিনি। আমার পরিবার এতো বছর কখনো অপেক্ষা করবে না।'

ছেলেটা এবার বললো, তাহলে কী ভেবে এমন ছেলের সাথে রিলেশন এ জড়াচ্ছেন?? শুনেছি, একটা মেয়ে নাকি একটা ছেলের ভবিষ্যৎ না দেখে তাকে ভালোবাসে না। কিন্তু আপনি তাকে কীভাবে ভালোবেসে বিয়ে করবেন ভাবছেন?
রাগ করেন না, বাস্তবতা বললাম। যেহেতু দুই মাসের প্রেম। এখনো বেশি দেরি হয়নি, ভেবে দেখবেন। না হ'লে পরে শুধু কষ্টই পাবেন, কিন্তু তখন করার কিছুই থাকবে না। এই বলে ছেলেটা অফলাইনে চলে যায়।

কয়েকঘন্টা পরে সেই মেয়েটার মেসেজ আসে...
আপনার জন্য ব্রেকআপ হয়ে গেছে😭😭
ছেলেটা এই এসএমএস দেখে তো অবাক!!
- কী??
মেয়েটা বললো "হ্যাঁ আপনার সব কথা বয়ফ্রেন্ডকে বললাম, তারপর ব্রেকআপ।"
ছেলেটা বললো আজব তো আপনাকে এসব বলতে কে বলেছিলো?? আপনাকে তো শুধু বাস্তবতা বুঝানোর জন্য বলেছিলাম।
মেয়েটা বললো 'আরে.. আপনি তো ঠিকই বলেছেন, আমি-ই ভুল করতে ছিলাম। ভালো থাকবেন।
এই বলে মেয়েটা অনলাইন থেকে চলে যায়।

......(চলবে)

~ মোঃ শাহারুখ হোসেন