এই ব্লগটি সন্ধান করুন
শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০
এসে দেখলো বাবা দেয়ালের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।
ছেলেঃ এ কী বাবা তুমি মায়ের ছবি দেখে দেখছো কেন!
বাবাঃ তোমাকে না বললাম, আমাকে একটু একা থাকতে দাও!
ছেলেঃ সরি বাবা!
বাবাঃ হুম কী জন্য এসেছো তাই বলো?
ছেলেঃ আচ্ছা বাবা, আমার মনে সেই থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তুমি যে গল্পটা বলছো, এই গল্পটা তুমি কীভাবে জানো? সেই ছেলে/মেয়ে দু'জন কী তোমার বন্ধু ছিলো? এতো বিস্তারিতভাবে তুমি গল্পটা বলছো, তুমি এতোকিছু কীভাবে জানো? এটা কার গল্প?
বাবাঃ (চোখে মুছে একটু মুচকি হেসে) এতোক্ষণেও বুঝতে পারো নি?
ছেলেঃ না....আর সেজন্যেই তো শুনতে এসেছি।
বাবাঃ এই গল্পের সেই ছেলেটা আর কেউ নয় রে "স্বপ্ন", সেই ছেলেটাই তোমার বাবা "শিহাব আহমেদ"।
ছেলেঃ হোয়াট???? তুমি???? ওয়েট ওয়েট.. বাবা। কী বলছো এসব!.. আমার মাথা তো পুরাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছুই বুঝতেছি না।
বাবাঃ হ্যাঁ বাবা এটাই সত্য। সেদিন তোমাকে পৃথিবীতে আনতে গিয়েই তোমার মা এই পৃথিবী কে বিদায় নেয়।
ছেলেঃ কিন্তু তুমি এতোদিন আমাকে বলেছ, আমার মা নাকি তোমার সাথে ঝগড়া করে বিদেশে চলে গেছে। আমার এস এস সি পরীক্ষার পর আমাকে নিয়ে মা'য়ের কাছে যাবে। কিন্তু এখন কী বলছো বাবা!! (ছেলে কান্না করে ফেলে)
বাবাঃ আসলে তুমি সত্যটা জানলে সহ্য করতে পারতে না, মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে। সেজন্য এতোগুলা বছর তোমাকে এই মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে এসেছি৷ অল্প বয়সে মা হারানোর ব্যথা তোমাকে দিতে চাই নি। আর সৎ মা তোমার খেয়াল ঠিকমতো রাখবে কী না! এই ভেবে কখনো দ্বিতীয় বিয়েও করি নি।
ছেলেঃ (ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে জড়িয়ে ধরে) বাবা তুমি এতোগুলা বছর এই কষ্ট বুকে নিয়ে বেঁচে আছো! এতোদিন কেন আমাকে বলো নি? সব সময় মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে কেঁদেছ। জিজ্ঞাসা করলে বলতে এটা তোর মা, ভালো করে লেখাপড়া করো তাহলে তোমার মায়ের কাছে নিয়ে যাবো।
বাবাঃ আরে পাগল ছেলে কাঁদছো কেন? তোমার মা'কে তো কথা দিয়েছিলাম বিয়ের পর আমার সন্তানকে আমাদের গল্প বলবো৷ আর আজ পনেরো বছর পর তোমার মা'কে দেয়া সেই কথাটা পূরণ করলাম।
ছেলেঃ বাবা, তুমি আমাকে মাফ করে দেও। আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না৷ তুমি আমার জন্য নিজের জীবনের এতোগুলা বছর নিঃসঙ্গতায় কাটিয়েছো। আর আমি তোমাকে কষ্ট দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে চাইছিলাম। আমি ভুল করেছি বাবা, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
বাবাঃ ক্ষমা চাইতে হবে না বাবা। তোমার ওপর আমার কোনো রাগ নেই। তুমি যে বুঝতে পেরেছো এতেই আমি অনেক খুশি।
ছেলেঃ আমি এতোদিন মায়ের বিদেশ চলে জন্য তোমাকে দোষারোপ করতাম। কিন্তু আজ সবকিছু জেনে নিজের উপর অনেক রাগ হচ্ছে। আমাকে ভূমিষ্ট করতে গিয়ে মা মৃত্যু বরণ করেছে, আমিই তো দায়ী।
বাবাঃ পাগল ছেলে বলে কী! তুমি বা আমি কেউ-ই দায়ী নই। আল্লাহ তোমার মায়ের হায়াত ওই পর্যন্ত রেখেছিলো সেজন্য আল্লাহ নিয়ে গেছেন। নিজেকে অপরাধী বা দোষী মনে করো না বাবা।
ছেলেঃ এভাবে আমাদের গল্পটা শেষ হবে বুঝিনি, বাবা।
বাবাঃ তোমার মায়ের আর আমার গল্পটা হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? এটা আজও জানি না। আসলে ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না, ভালোবাসা পরিবর্তন হয়। ভালোবাসা একজন থেকে আরেকজনে স্থান্তরিত হয়। আর তাইতো তোমার মায়ের আমার ভালোবাসার গল্পটা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু ভালোবাসা বেঁচে আছে তোমার মাঝে। আর এভাবেই ভালোবাসা বেঁচে থাকে পৃথিবীতে কারো না কারো মাঝে।
ভালোবাসা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়না।
ছেলেঃ হুম বাবা। পদার্থ বিজ্ঞানে পড়েছি, শক্তির প্রধান উৎস সূর্য। আর এই শক্তি কখনো পুরোপুরি শেষ হয় না। এটা এক পদার্থ থেকে আরেক পদার্থে সঞ্চারিত হয়। ঠিক ভালোবাসাও তেমন শেষ হয় না, কারো না কারো মাঝে থাকে।
বাবাঃ হ্যাঁ ঠিক তাই। সামনে তোমার এস এস সি পরীক্ষা। ভালো করে লেখাপড়া করবে। তোমাকে নিয়ে তোমার মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিলো। তুমি মানুষের মতো মানুষ হবে।
ছেলেঃ এজন্যই কী আমার নাম "স্বপ্ন" রেখেছো?
বাবাঃ এই নামটা তোমার মা'য়ের দেয়া। তোমার জন্মের আগেই ঠিক করে রেখেছিলো।
ছেলেঃ বাবা!
বাবাঃ হ্যাঁ বলো..
ছেলেঃ মায়ের কবরটা কোথায়? আমাকে নিয়ে চলো, আমি জিয়ারত করে আসতে চাই। (দু'চোখে অশ্রু)
বাবাঃ এসো আমার সাথে...
কবর জিয়ারত করে বাসায় ফিরতে ফিরতে বাবা ছেলেকে বলছেন...
বাবাঃ সবকিছুই তোমাকে বললাম। কখনো মন খারাপ করবে না, নিজেকে অপরাধী মনে করবে না। মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করবে আর মানুষের মতো মানুষ হবে।
ছেলেঃ ইনশাআল্লাহ 'বাবা'।
(এদের গল্পটা হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু এই ভালোবাসা চলতে থাকবে অনন্তকাল। মানুষের মাঝে এমন ভালোবাসা বেঁচে থাকুক। পুরো পৃথিবীটা হোক ভালোবাসার।)
[সম্পূর্ণ গল্পটা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো জানাবেন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের অনুপ্রেরণা পেলে আরো ভালো কিছু লিখবো। ধন্যবাদ সকলকে এতোদিন সব পর্বগুলো পড়ার জন্য।]
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০
স্কুল থেকে ফিরে ছেলে (স্বপ্ন) তার বাবার কাছে আবার গল্প শুনতে বসে। ও বাবা, তারপর কী হয়েছিলো?
বাবাঃ তারপর! মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায়।
ছেলেঃ কিন্তু সেই ছেলেটার কী হলো?
বাবাঃ গল্পের মজার কাহিনী তো এখানেই। মেয়েটা তো জানতোই না যে তার বিয়ে কার সাথে হচ্ছে। সে বিয়ের পর জানতে পারে এবং গাড়িতে ওঠার সময় দেখতে পারে। দেখে তো নিজের চোখকে বিশ্বাসই করতে পারছিলো না।
ছেলেঃ কেন বাবা?
বাবাঃ কারণ সে দেখলো তার বিয়ে হয়েছে সেই মেসেঞ্জারে কথা বলা ছেলেটার সাথে।
ছেলেঃ কী বলো বাবা! এটা কীভাবে সম্ভব হলো?
বাবাঃ হুম এটাই সম্ভব হয়েছে। আসলে ছেলেটা একটা ভালো চাকরি করতো। আর মেয়েটার সাথে দীর্ঘদিন কথা বলে মেয়েটার সম্পর্কে সব খোঁজ খবর নিয়ে রেখেছে। তাই মেয়েটার পরীক্ষার পরে ছেলেটা তার পরিবারকে জানাই। আর দুই পরিবার রাজি হয়।
ছেলেঃ তাহলে সেইদিন মেয়েটাকে দেখতে ওই ছেলেটার পরিবার গিয়েছিলো?
বাবাঃ হ্যাঁ।
ছেলেঃ ওহ এইবার বুঝলাম। এইজন্যই ছেলেটা সবসময় মেয়েটার কথায় কান দিতো না। কারণ সে তো জানতো তার বিয়ে ওই মেয়েটার সাথেই হচ্ছে। ঠিক বলেছি না বাবা?
বাবাঃ হ্যাঁ ঠিক। এই তো আমার লক্ষী ছেলেটা বুঝে গেছে।
ছেলেঃ বাবা তারপর কী হয়েছিলো?
বাবাঃ তারপর মেয়েটা পুরো পথে বারবার ছেলেটার দিকে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকাচ্ছিলো। কিন্তু নতুন বউ বলে কথা, তাই হাজার প্রশ্ন তার মনে থাকা স্বত্ত্বেও জিজ্ঞাসা করতে পারছিলো না। কেমন যেন অস্থিরতা কাজ করছিলো মেয়েটার ভিতর।
ছেলেঃ সত্যি বাবা ওমন পরিস্থিতিতে না জিজ্ঞাসা করে থাকা যায় না।
বাবাঃ হুম, কিন্তু মেয়েটা নিজেকে শান্ত করে অপেক্ষা করলো। রাতে যখন স্বামী মানে সেই ছেলেটাকে পেলো সব ঘটনা শুনে তারপর সে শান্ত হলো। তবে মেয়েটা এখন অনেক খুশি, কারণ সে যাকে মনে মনে চেয়েছিলো তাকেই জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে।
ছেলেঃ কেমন অদ্ভুত ব্যাপার।
বাবাঃ আর মেয়েটা তখন তার মনের কথা ছেলেটা কে বলে। ছেলেটাও বলে যে "আমিও তোমাকে তোমার থেকেও বেশি ভালোবাসি" আর তাই বউ করে ঘরে এনেছি। আর কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।
ছেলেঃ যাক অবশেষে তারা দু'জন দুজনকে পেয়ে গেলো।
বাবাঃ হ্যাঁ।
ছেলেঃ তারপর নিশ্চয় তারা সুখে শান্তিতে সংসার করছিলো?
বাবাঃ সুখ! সুখ সবার কপালে বেশিক্ষণ থাকে না।
ছেলেঃ কেন বাবা, একথা বলছো কেন?
বাবাঃ প্রথম দুই বছর খুব সুখে শান্তিতে তারা সংসার করছিলো। দুই বছর পরে মেয়েটা প্রেগন্যান্ট হয়।
ছেলেঃ এটা তো সুখের সংবাদ।
বাবাঃ এটা নিঃসন্দেহে সুখের সংবাদ ছিলো। তারাও অনেক খুশি হয়েছিলো এই খবরে।
ছেলেঃ তাহলে?
বাবাঃ ডেলিভারির সময় হয়ে গেলো, মেয়েটাকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। (বলতে বলতে কান্না শুরু করে)
ছেলেঃ ও বাবা তোমার আবার কী হলো? তুমি কাঁদছো কেন?
বাবাঃ... (কোনো উত্তর দেয় না।)
ছেলেঃ বাবা, কী হলো তোমার? হাসপাতালে নিয়ে গেলে খারাপ কিছু হয়েছিলো?
বাবাঃ চোখ মুছে.... হ্যাঁ মেয়েটার অবস্থা অনেক খারাপ ছিলো। ডাক্তার বললো..সিজার না করলে বাচ্চা এবং মা দুজনকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে যাবে।
তারপর তাকে নিয়ে যায়...প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ডাক্তার বের হয়...ছেলেটা দৌড়ে গিয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার বলে "আপনার একটা ফুটফুটে ছেলে সন্তান হয়েছে" - আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু ডাক্তার আমার ওয়াইফ কেমন আছে? "সরি স্যার আপনার স্ত্রী কে বাঁচানো সম্ভব হয় নি" - ডাক্তার। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও দুজনকে বাঁচাতে পারিনি।
ছেলেটা একথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে মাটিতে বসে পড়ে।
ছেলেঃ (ছেলের চোখে জল ছলছল করছিলো) এভাবে তাদের ভালোবাসা শেষ হয়ে গেলো? এমন মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক ঘটনা!
বাবাঃ না, ভালোবাসা শেষ হয় নি। "স্বপ্ন" তুমি এখন যাও, আমি একটু একা থাকতে চাই।
(স্বপ্নের বাবা কিছুক্ষণ একা থাকতে চাইলো। ছেলে (স্বপ্ন) রুম থেকে চলে গেলো। বাইরে যেয়ে ছেলেটা ভাবতে থাকে পুরো গল্পটা নিয়ে। হঠাৎ তার মনে একটা প্রশ্ন আসে আর সে আবার ঘরে আসে বাবাকে দেখলো....(চলবে)
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০
ছেলেঃ হ্যালো...
মেয়েঃ হুম, কী করছো?
ছেলেঃ আমি আবার কী করবো, আমার কথা বাদ দাও। কালকে তোমার বিয়ে, আর এখন বিয়ের প্রস্তুতি না নিয়ে আমাকে কল কেন?
মেয়েঃ কেন! বিয়ে তো কী হয়েছে? তোমাকে কল করা যাবে না?
ছেলেঃ আরে যাবে না কেন, এমনি বললাম আর কি।
মেয়েঃ হুম বুঝি বুঝি, এখনই পরপর ভাবা শুরু করেছো।
ছেলেঃ আপন ভেবে কী হবে! তোমার আপন যে হবে তাকে তো কালকে পেয়ে যাবে।
মেয়েঃ এখনো ঢং করা বাদ দাও বলছি! বিয়ে করলাম না তাই এই অবস্থা। বিয়ে হয়ে গেলে তো জীবনে খোঁজ-ই নিবা না।
ছেলেঃ আমি কী পাগল নাকি, অন্যের বউয়ের খোঁজ নিয়ে তার সংসারে অশান্তি করবো।
মেয়েঃ ধুর, তোমার এসব কথা শুনার জন্য কল করিনি। বাই।। (মেয়েটা কল কেটে দেয়।)
(ছেলেটা ভাবে আজব তো, আমি কী এমন বললাম) কিছুক্ষণ পর মেয়েটা আবার কল করে।
রিসিভ করতেই শুরু.....
মেয়েঃ ওই তোর সমস্যা কী? আমি যে রেগে গিয়ে কল কেটে দিলাম তুই কল ব্যাক করলি না কেন?
ছেলেঃ কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তুই করে বলছো কেন?
মেয়েঃ কী করবো তা!
ছেলেঃ আমি জানি তুমি রাগ করে বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না। ঠিকই আবার কল করবে তাই আমি কল করি নি।
মেয়েঃ হুম, খুব বোঝেন উনি আমাকে। বুঝলে তো আজ এমন হতো না। (বিড়বিড় করে বলে মেয়েটা)
ছেলেঃ কী বিড়বিড় করে বলছো?
মেয়েঃ কিছু না। আচ্ছা তোমার কী আমাকে কিছু বলার আছে?
ছেলেঃ কল করেছো তুমি, কিছু বলার তো তোমার থাকার কথা।
মেয়েঃ আমি কল করেছি বলে তোমার বলার থাকবে না?
ছেলেঃ কী আর বলার থাকবে?
মেয়েঃ ক্যান, কালকে আমার বিয়ে হয়ে যাবে তোমার কী খারাপ লাগছে না? তোমার কষ্ট হচ্ছে না?
ছেলেঃ আজব তো! খারাপ লাগবে বা কেন আর কষ্টই বা লাগবে কেন? এটা তো একটা আনন্দের বিষয়।
মেয়েঃ ওহ, সত্যিই কী খারাপ লাগছে না?
ছেলেঃ না লাগছে না।
মেয়েঃ একটুও মিস করবে না?
ছেলেঃ মিস তো অস্তিত্বহীন মানুষকে কিরা যায়। কিন্তু তোমার অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান। তাই মিস করার প্রশ্নই ওঠে না।
মেয়েঃ যাক ভালো, বুঝেছি।
ছেলেঃ বুঝলেই ভালো।
মেয়েঃ আচ্ছা ভালো থেকো আর হয়তো কখনো কথা হবে না। তুমিও একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিও।
ছেলেঃ হুম ঠিক আছে।
মেয়েঃ রাখছি। (এই বলে মেয়েটা কল কেটে দেয়।কিন্তু ছেলেটা কে তার মনের কথা বলতে পারে না৷ নিজের ভিতর ভালোবাসা লুকিয়ে নিরবে কাঁদতে থাকে।)
শুক্রবার সকাল
মেয়েটা সারারাত না ঘুমিয়ে অঝোরে কেঁদেছে। চেহারা একেবারে ফ্যাকাসে মলিন হয়ে গেছে। বাসার লোকজন বলছে কী রে সারারাত ঘুমাস নি? চেহারার এ কী হাল করেছিস! স্মৃতি কোনো উত্তর দেয় না। বিয়ে বাড়ি
অনেক লোকজন, হাসি উল্লাসে সবাই মেতে আছে। কিন্তু স্মৃতি হাজার লোকের ভীড়েও যেন একা। কাউকে কিছু বলতেও পারছে না আবার ছেলেটাকেও বলতে পারলো না। আজকে অনেকবার সে ছেলেটাকে কল করে। কিন্তু ছেলেটা একবারও কল রিসিভ করে নি। স্মৃতি'র মনে ভালো লাগছে না, কী হলো ওর ফোন তুলছে না কেন? (এভাবে অনেকবার চেষ্টা করেও ছেলেটার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারে নি।)
বাবা,, ও বাবা তারপর কী হলো? এ কী বাবা তুমি কাঁদছো কেন?
- কই পগল কাঁদবো কেন? চোখে কী যেন পড়েছে।
- ওহ। বাবা, তারপর কী হয়েছিলো? সেই ছেলেটার কোনো খোঁজ পেয়েছিলো মেয়েটা?
- "স্বপ্ন" তোমার স্কুলের সময় হয়ে গেছে, যাও গুছিয়ে স্কুলে যাও।
- না বাবা, আজকে গল্পটা পুরো শুনবো। প্লিজ বাবা আজকে স্কুলে না যায়? প্লিজ।
- কোনো কথা না, আগে লেখাপড়া তারপর অন্যকিছু। তুমি স্কুল থেকে এলে বাকিটা শোনাবো।
- ওকে বাবা। কিন্তু এইটুকু তো বলো যে, মেয়েটির কী বিয়ে হয়ে গিছিলো?
- হ্যাঁ......... (চলবে)
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
শনিবার, ২৩ মে, ২০২০
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০
শনিবার, ১৬ মে, ২০২০
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০
মেয়েঃ কান্না কণ্ঠে, আমাকে মাফ করে দিয়েন ভাইয়া।
ছেলেঃ মাফ চাচ্ছেন কেন? আপনি তো আমার কাছে কোনো অন্যায় করেন নি। আর আমার আপনার ওপর কোনো রাগ বা অভিযোগও নেই।
মেয়েঃ আপনি আমাকে মাফ করে দিয়েন। আমি আইডি ডিএক্টিভ করছি আর কোনোদিন কথা হবে না।
ছেলেঃ আজব তো! কী হয়েছে সেটা আগে বলুন। কান্না থামান, আগে সব খুলে বলুন। তারপর যা করার করবেন।
মেয়েঃ ভাইয়া আমি সুইসাইড করবো, আমি আর বাঁচতে চাই না। (বলেই আবার কান্না শুরু)
ছেলেঃ কী!!!!! আপনার মাথা ঠিক আছে? কী সব বলছেন, কী এমন হয়েছে যে আত্মহত্যা করতে হবে?
মেয়েঃ আমি সোহাগ কে ছাড়া বাঁঁচবো না,😭😭 আমি ওকেই চাই😭😭
ছেলেঃ বাঁচা মরা পরে দেখা যাবে, এই সোহাগ আবার কে?
মেয়েঃ আমার বয়ফ্রেন্ড, ওর নাম সোহাগ।
ছেলেঃ ওহ বুঝলাম! তা আপনাকে কী এখন আদর সোহাগ করছে না? ঝগড়া হয়েছে?
মেয়েঃ ভাইয়া,, বলে মেয়েটা হালকা হেসে ফেললো। মানে কাঁদতে কাঁদতে হাসলে যেমন হয় আর কী।
ছেলেঃ এই তো লক্ষী মেয়ে। এতো সুন্দর পরীর মতো মেয়ে কাঁদলে মানায় নাকি!
মেয়েঃ ভাইয়া,, আমি লক্ষী ও না পরী ও না। আমি স্মৃতি।
ছেলেঃ হ্যাঁ জানি তো..... (শুনার আগেই মেয়েটা কল কেটে দিলো।)
ছেলেটা মেয়েটাকে নিয়ে ভাবছে, 🤔 মেয়েটা অনেক সহজ সরল। মনে যা আসে তাই বলে ফেলে, কে কী ভাবলো কিছুই ভাবে না৷ অনেক আবেগী, জানি না কোন ছেলের খপ্পরে পড়েছে। কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে যেন। (মনে মনে এগুলো ভাবছে তখনই মেসেঞ্জারে মেয়েটার কল।)
ছেলেঃ রিসিভ করে হ্যালো।
মেয়েঃ সরি সরি সরি ভাইয়া প্লিজ কিছু মনে করেন না।
ছেলেঃ আচ্ছা হয়েছে এতো সরি বলতে হবে না। (মেয়েটা এখন অনেক খুশি মনে হচ্ছে।)
মেয়েঃ আসলে ভাইয়া সোহাগ কল দিছিলো, এজন্য আপনার কল কেটে দিছিলাম।
ছেলেঃ হ্যাঁ ওটা না বললেও বুঝেছি, এজন্য এতো খুশি। তা কারণ কী! একটু আগে মরে যাবো বলে কান্না জুড়েছিলেন, এখন হাসির রহস্যটা কী বলা যাবে?
মেয়েঃ অন্য কোনোদিন বলবো। এখন শুধু এইটুকু জেনে রাখেন ওর সাথে ঝামেলা হয়েছিলো একটা বিষয় নিয়ে এখন কল করে সরি বললো, অনেক মাফ চাইলো তারপর মাফ করে দিছি☺☺☺
ছেলেঃ ওহ আচ্ছা।
মেয়েঃ আচ্ছা ভাইয়া এখন বাই,, ও আবার কল দিচ্ছে। এনাদার কল পেলে আবার প্রবলেম হবে। (বলেই কলটা কেটে দিলো।)
তবে ছেলেটা বুঝতে পারে হয়তো তার সাথে কথা বলে বলে মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে ঝামেলা হচ্ছে। সে হয়তো কথা বলা পছন্দ করে না, এসবই হবে তাই আমাকে বললো না। (ছেলেটা অফলাইনে চলে যায়।)
এভাবে ৩ দিন পার হয়ে গেলো মেয়েটা অনলাইনে আসে না আর কোনো খোঁজও নেই। হঠাৎ মেয়েটার নামের পাশে সবুজ বাতি দেখেই ছেলেটা কল দিলো....মেয়েটা সাথে সাথেই রিসিভ করলো
মেয়েঃ হ্যালো..
ছেলেঃ হ্যালো..আপনি কোথায় ছিলেন? অনলাইনে আসেন নি কেন? কী হয়েছিলো আপনার? আমাকে ওতবার কল দিছেলেন কেন????
মেয়েঃ এতো প্রশ্ন একবারে?? আমি হাসপাতালে ছিলাম...
ছেলেঃ কী!!!!!! হাসপাতালে কেন?? (চলবে...)
সোমবার, ১১ মে, ২০২০
রবিবার, ১০ মে, ২০২০
মেয়েটা ইন্টারমিডিয়েট পড়ে। খুব চটপটে স্বভাবের, সবসময় হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করে৷ লেখাপড়া, ঘুরাঘুরি এগুলো নিয়েই হেসে খেলে কাটে তার দিন। হঠাৎ লকডাউনে মেয়েটার সব আনন্দ যেন এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। আগের মতো আর কোথাও যেতে পারে না। কলেজ, কোচিং সব-ই বন্ধ। সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটা দিন দিন কেমন উদাসীন আর মনমরা হয়ে যেতে থাকে। তো এমন দেখে তার বড়ো ভাই ফেসবুকে একটা একাউন্ট খুলে দিয়ে বললো, 'এখন থেকে বোরিং লাগলে ফেসবুক ব্যবহার করবি, ভালো লাগবে। মেয়েটার ভাই কয়েকটি বিনোদন পেইজ, গ্রুপে জয়েন করিয়ে দিলো। টুকটাক ধারণা দিলো ফেসবুক ব্যবহার সম্পর্কে।
এরপর থেকে মেয়েটার বোরিং লাগলে ফেসবুকে আসত, ভালোই সময় কাটতো। বেশকিছু নতুন বন্ধুও হয়েছে, কয়েকজনের সাথে টুকটাক কথা বলে। এক ছেলের সাথে বেশকিছু দিন কথা বলতে বলতে ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হঠাৎ একদিন ছেলেটা মেয়েটাকে প্রপোজ করে। মেয়েটা তার কিছু বান্ধবীর মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছিল ছেলেটা অনেক ভালো, ভদ্র। ছেলেটা অনার্স ২য় বর্ষে পড়ে। তাই মেয়েটাও কোনো কিছু না ভেবেই হ্যাঁ বলে দেয়।
এভাবে দুইমাস পার হয়ে যায়, তারা মেসেঞ্জারে অডিও/ভিডিও কলে কথা বলতো।
ছেলেটা মেয়েটাকে অনেক ভালোবাসে, বিয়ে করতে চায়। এমন অনেক স্বপ্ন দেখে এবং মেয়েটাকেও দেখায়। মেয়েটাকে তার জন্য অপেক্ষা করতে বলে। কিন্তু এদিকে মেয়ের পরিবার এখন থেকেই ছেলে খুঁজতে শুরু করেছে। তাদের ইচ্ছা মেয়ে ইন্টার পাশ করলে বিয়ে দিয়ে দেবে। মেয়েটা এই কথা ছেলেটাকে জানিয়ে দেয়। আর মেয়েটা তার পরিবারের কথা ফেলতে পারবে না। পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে নিজের পরিবারকে সমাজের কাছে ছোটো করতে পারবে না। (স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়।)
মেয়েটার মেসেঞ্জারে আরেকজন ছেলের সাথে কথা হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে সে তার বিএফ এর টপিক ওঠায়। তখন মেয়েটা তার বিএফ সম্পর্কে সেই ছেলেটাকে বলে। এখন অনার্স ২য় বর্ষে পড়ে, অনেক ভালো, ভদ্র, আমাকে খুব ভালোবাসে এসব সবই বললো। তো সেই ছেলেটা সব শুনে হাসির ইমোজি দিয়ে বললো রাগ করেন না! কিছু কথা বলছি মন দিয়ে শোনেন। (ফ্রি উপদেশ দিবে আর কী!)
আপনি তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন, সেও আপনাকে বিয়ে করতে চাচ্ছে৷ খুব ভালো কথা! কিন্তু এটা কী বাস্তবে সম্ভব হবে??? মেয়েটা উত্তর দিলো কেন হবে না? ও তো আমাকে বলেছে বিয়ে করবে। এ কথা শুনে ছেলেটা আবার বলা শুরু করল....
আপনার বিএফ এখন অনার্স ২য় বর্ষে পড়ে। এখনো ২ বছর পর অনার্স ৪র্থ বর্ষে উঠবে। পরীক্ষা হবে, রেজাল্ট দিবে, এসব মিলিয়ে অনার্স শেষ করতে তার প্রায় ৩ বছর লেগেই যাবে।
মেয়েটা বললো 'হ্যাঁ তা তাই লাগবেই'
ছেলেটা তখন বললো সে অনার্স শেষ করলেই কী আপনাকে বিয়ে করতে পারবে?? তার একটা চাকরি খুঁজে এস্টাব্লিশ হতে তো হবে, তাই না?? চাকরি পাওয়ার পর-ই সে তার পরিবারকে জানাতে বা বলতে পারবে, এর আগে না। ধরলাম আরও ২ বছর লাগবে চাকরি খুঁজে নিজেকে প্রস্তুত করতে৷ সব মিলিয়ে ৫ বছরের আগে সে আপনাকে চাইলেও কী পাবে? আর আপনার পরিবার কী ৫ বছর অপেক্ষা করবে??
মেয়েটা বললো 'এভাবে তো ভেবে দেখিনি। আমার পরিবার এতো বছর কখনো অপেক্ষা করবে না।'
ছেলেটা এবার বললো, তাহলে কী ভেবে এমন ছেলের সাথে রিলেশন এ জড়াচ্ছেন?? শুনেছি, একটা মেয়ে নাকি একটা ছেলের ভবিষ্যৎ না দেখে তাকে ভালোবাসে না। কিন্তু আপনি তাকে কীভাবে ভালোবেসে বিয়ে করবেন ভাবছেন?
রাগ করেন না, বাস্তবতা বললাম। যেহেতু দুই মাসের প্রেম। এখনো বেশি দেরি হয়নি, ভেবে দেখবেন। না হ'লে পরে শুধু কষ্টই পাবেন, কিন্তু তখন করার কিছুই থাকবে না। এই বলে ছেলেটা অফলাইনে চলে যায়।
কয়েকঘন্টা পরে সেই মেয়েটার মেসেজ আসে...
আপনার জন্য ব্রেকআপ হয়ে গেছে😭😭
ছেলেটা এই এসএমএস দেখে তো অবাক!!
- কী??
মেয়েটা বললো "হ্যাঁ আপনার সব কথা বয়ফ্রেন্ডকে বললাম, তারপর ব্রেকআপ।"
ছেলেটা বললো আজব তো আপনাকে এসব বলতে কে বলেছিলো?? আপনাকে তো শুধু বাস্তবতা বুঝানোর জন্য বলেছিলাম।
মেয়েটা বললো 'আরে.. আপনি তো ঠিকই বলেছেন, আমি-ই ভুল করতে ছিলাম। ভালো থাকবেন।
এই বলে মেয়েটা অনলাইন থেকে চলে যায়।
......(চলবে)
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
