এই ব্লগটি সন্ধান করুন
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০
এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
১১তম পর্ব (শেষ পর্ব)
১০ম পর্ব পড়ুন এখানে... এসে দেখলো বাবা দেয়ালের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।
ছেলেঃ এ কী বাবা তুমি মায়ের ছবি দেখে দেখছো কেন!
বাবাঃ তোমাকে না বললাম, আমাকে একটু একা থাকতে দাও!
ছেলেঃ সরি বাবা!
বাবাঃ হুম কী জন্য এসেছো তাই বলো?
ছেলেঃ আচ্ছা বাবা, আমার মনে সেই থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তুমি যে গল্পটা বলছো, এই গল্পটা তুমি কীভাবে জানো? সেই ছেলে/মেয়ে দু'জন কী তোমার বন্ধু ছিলো? এতো বিস্তারিতভাবে তুমি গল্পটা বলছো, তুমি এতোকিছু কীভাবে জানো? এটা কার গল্প?
বাবাঃ (চোখে মুছে একটু মুচকি হেসে) এতোক্ষণেও বুঝতে পারো নি?
ছেলেঃ না....আর সেজন্যেই তো শুনতে এসেছি।
বাবাঃ এই গল্পের সেই ছেলেটা আর কেউ নয় রে "স্বপ্ন", সেই ছেলেটাই তোমার বাবা "শিহাব আহমেদ"।
ছেলেঃ হোয়াট???? তুমি???? ওয়েট ওয়েট.. বাবা। কী বলছো এসব!.. আমার মাথা তো পুরাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছুই বুঝতেছি না।
বাবাঃ হ্যাঁ বাবা এটাই সত্য। সেদিন তোমাকে পৃথিবীতে আনতে গিয়েই তোমার মা এই পৃথিবী কে বিদায় নেয়।
ছেলেঃ কিন্তু তুমি এতোদিন আমাকে বলেছ, আমার মা নাকি তোমার সাথে ঝগড়া করে বিদেশে চলে গেছে। আমার এস এস সি পরীক্ষার পর আমাকে নিয়ে মা'য়ের কাছে যাবে। কিন্তু এখন কী বলছো বাবা!! (ছেলে কান্না করে ফেলে)
বাবাঃ আসলে তুমি সত্যটা জানলে সহ্য করতে পারতে না, মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে। সেজন্য এতোগুলা বছর তোমাকে এই মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে এসেছি৷ অল্প বয়সে মা হারানোর ব্যথা তোমাকে দিতে চাই নি। আর সৎ মা তোমার খেয়াল ঠিকমতো রাখবে কী না! এই ভেবে কখনো দ্বিতীয় বিয়েও করি নি।
ছেলেঃ (ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে জড়িয়ে ধরে) বাবা তুমি এতোগুলা বছর এই কষ্ট বুকে নিয়ে বেঁচে আছো! এতোদিন কেন আমাকে বলো নি? সব সময় মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে কেঁদেছ। জিজ্ঞাসা করলে বলতে এটা তোর মা, ভালো করে লেখাপড়া করো তাহলে তোমার মায়ের কাছে নিয়ে যাবো।
বাবাঃ আরে পাগল ছেলে কাঁদছো কেন? তোমার মা'কে তো কথা দিয়েছিলাম বিয়ের পর আমার সন্তানকে আমাদের গল্প বলবো৷ আর আজ পনেরো বছর পর তোমার মা'কে দেয়া সেই কথাটা পূরণ করলাম।
ছেলেঃ বাবা, তুমি আমাকে মাফ করে দেও। আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না৷ তুমি আমার জন্য নিজের জীবনের এতোগুলা বছর নিঃসঙ্গতায় কাটিয়েছো। আর আমি তোমাকে কষ্ট দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে চাইছিলাম। আমি ভুল করেছি বাবা, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
বাবাঃ ক্ষমা চাইতে হবে না বাবা। তোমার ওপর আমার কোনো রাগ নেই। তুমি যে বুঝতে পেরেছো এতেই আমি অনেক খুশি।
ছেলেঃ আমি এতোদিন মায়ের বিদেশ চলে জন্য তোমাকে দোষারোপ করতাম। কিন্তু আজ সবকিছু জেনে নিজের উপর অনেক রাগ হচ্ছে। আমাকে ভূমিষ্ট করতে গিয়ে মা মৃত্যু বরণ করেছে, আমিই তো দায়ী।
বাবাঃ পাগল ছেলে বলে কী! তুমি বা আমি কেউ-ই দায়ী নই। আল্লাহ তোমার মায়ের হায়াত ওই পর্যন্ত রেখেছিলো সেজন্য আল্লাহ নিয়ে গেছেন। নিজেকে অপরাধী বা দোষী মনে করো না বাবা।
ছেলেঃ এভাবে আমাদের গল্পটা শেষ হবে বুঝিনি, বাবা।
বাবাঃ তোমার মায়ের আর আমার গল্পটা হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু এই ভালোবাসার শেষ কোথায়? এটা আজও জানি না। আসলে ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না, ভালোবাসা পরিবর্তন হয়। ভালোবাসা একজন থেকে আরেকজনে স্থান্তরিত হয়। আর তাইতো তোমার মায়ের আমার ভালোবাসার গল্পটা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু ভালোবাসা বেঁচে আছে তোমার মাঝে। আর এভাবেই ভালোবাসা বেঁচে থাকে পৃথিবীতে কারো না কারো মাঝে।
ভালোবাসা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়না।
ছেলেঃ হুম বাবা। পদার্থ বিজ্ঞানে পড়েছি, শক্তির প্রধান উৎস সূর্য। আর এই শক্তি কখনো পুরোপুরি শেষ হয় না। এটা এক পদার্থ থেকে আরেক পদার্থে সঞ্চারিত হয়। ঠিক ভালোবাসাও তেমন শেষ হয় না, কারো না কারো মাঝে থাকে।
বাবাঃ হ্যাঁ ঠিক তাই। সামনে তোমার এস এস সি পরীক্ষা। ভালো করে লেখাপড়া করবে। তোমাকে নিয়ে তোমার মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিলো। তুমি মানুষের মতো মানুষ হবে।
ছেলেঃ এজন্যই কী আমার নাম "স্বপ্ন" রেখেছো?
বাবাঃ এই নামটা তোমার মা'য়ের দেয়া। তোমার জন্মের আগেই ঠিক করে রেখেছিলো।
ছেলেঃ বাবা!
বাবাঃ হ্যাঁ বলো..
ছেলেঃ মায়ের কবরটা কোথায়? আমাকে নিয়ে চলো, আমি জিয়ারত করে আসতে চাই। (দু'চোখে অশ্রু)
বাবাঃ এসো আমার সাথে...
কবর জিয়ারত করে বাসায় ফিরতে ফিরতে বাবা ছেলেকে বলছেন...
বাবাঃ সবকিছুই তোমাকে বললাম। কখনো মন খারাপ করবে না, নিজেকে অপরাধী মনে করবে না। মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করবে আর মানুষের মতো মানুষ হবে।
ছেলেঃ ইনশাআল্লাহ 'বাবা'।
(এদের গল্পটা হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু এই ভালোবাসা চলতে থাকবে অনন্তকাল। মানুষের মাঝে এমন ভালোবাসা বেঁচে থাকুক। পুরো পৃথিবীটা হোক ভালোবাসার।)
[সম্পূর্ণ গল্পটা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো জানাবেন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের অনুপ্রেরণা পেলে আরো ভালো কিছু লিখবো। ধন্যবাদ সকলকে এতোদিন সব পর্বগুলো পড়ার জন্য।]
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০
এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
দশম পর্ব (১০ম পর্ব)
৯ম পর্ব পড়ুন এখানে... স্কুল থেকে ফিরে ছেলে (স্বপ্ন) তার বাবার কাছে আবার গল্প শুনতে বসে। ও বাবা, তারপর কী হয়েছিলো?
বাবাঃ তারপর! মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায়।
ছেলেঃ কিন্তু সেই ছেলেটার কী হলো?
বাবাঃ গল্পের মজার কাহিনী তো এখানেই। মেয়েটা তো জানতোই না যে তার বিয়ে কার সাথে হচ্ছে। সে বিয়ের পর জানতে পারে এবং গাড়িতে ওঠার সময় দেখতে পারে। দেখে তো নিজের চোখকে বিশ্বাসই করতে পারছিলো না।
ছেলেঃ কেন বাবা?
বাবাঃ কারণ সে দেখলো তার বিয়ে হয়েছে সেই মেসেঞ্জারে কথা বলা ছেলেটার সাথে।
ছেলেঃ কী বলো বাবা! এটা কীভাবে সম্ভব হলো?
বাবাঃ হুম এটাই সম্ভব হয়েছে। আসলে ছেলেটা একটা ভালো চাকরি করতো। আর মেয়েটার সাথে দীর্ঘদিন কথা বলে মেয়েটার সম্পর্কে সব খোঁজ খবর নিয়ে রেখেছে। তাই মেয়েটার পরীক্ষার পরে ছেলেটা তার পরিবারকে জানাই। আর দুই পরিবার রাজি হয়।
ছেলেঃ তাহলে সেইদিন মেয়েটাকে দেখতে ওই ছেলেটার পরিবার গিয়েছিলো?
বাবাঃ হ্যাঁ।
ছেলেঃ ওহ এইবার বুঝলাম। এইজন্যই ছেলেটা সবসময় মেয়েটার কথায় কান দিতো না। কারণ সে তো জানতো তার বিয়ে ওই মেয়েটার সাথেই হচ্ছে। ঠিক বলেছি না বাবা?
বাবাঃ হ্যাঁ ঠিক। এই তো আমার লক্ষী ছেলেটা বুঝে গেছে।
ছেলেঃ বাবা তারপর কী হয়েছিলো?
বাবাঃ তারপর মেয়েটা পুরো পথে বারবার ছেলেটার দিকে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকাচ্ছিলো। কিন্তু নতুন বউ বলে কথা, তাই হাজার প্রশ্ন তার মনে থাকা স্বত্ত্বেও জিজ্ঞাসা করতে পারছিলো না। কেমন যেন অস্থিরতা কাজ করছিলো মেয়েটার ভিতর।
ছেলেঃ সত্যি বাবা ওমন পরিস্থিতিতে না জিজ্ঞাসা করে থাকা যায় না।
বাবাঃ হুম, কিন্তু মেয়েটা নিজেকে শান্ত করে অপেক্ষা করলো। রাতে যখন স্বামী মানে সেই ছেলেটাকে পেলো সব ঘটনা শুনে তারপর সে শান্ত হলো। তবে মেয়েটা এখন অনেক খুশি, কারণ সে যাকে মনে মনে চেয়েছিলো তাকেই জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে।
ছেলেঃ কেমন অদ্ভুত ব্যাপার।
বাবাঃ আর মেয়েটা তখন তার মনের কথা ছেলেটা কে বলে। ছেলেটাও বলে যে "আমিও তোমাকে তোমার থেকেও বেশি ভালোবাসি" আর তাই বউ করে ঘরে এনেছি। আর কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।
ছেলেঃ যাক অবশেষে তারা দু'জন দুজনকে পেয়ে গেলো।
বাবাঃ হ্যাঁ।
ছেলেঃ তারপর নিশ্চয় তারা সুখে শান্তিতে সংসার করছিলো?
বাবাঃ সুখ! সুখ সবার কপালে বেশিক্ষণ থাকে না।
ছেলেঃ কেন বাবা, একথা বলছো কেন?
বাবাঃ প্রথম দুই বছর খুব সুখে শান্তিতে তারা সংসার করছিলো। দুই বছর পরে মেয়েটা প্রেগন্যান্ট হয়।
ছেলেঃ এটা তো সুখের সংবাদ।
বাবাঃ এটা নিঃসন্দেহে সুখের সংবাদ ছিলো। তারাও অনেক খুশি হয়েছিলো এই খবরে।
ছেলেঃ তাহলে?
বাবাঃ ডেলিভারির সময় হয়ে গেলো, মেয়েটাকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। (বলতে বলতে কান্না শুরু করে)
ছেলেঃ ও বাবা তোমার আবার কী হলো? তুমি কাঁদছো কেন?
বাবাঃ... (কোনো উত্তর দেয় না।)
ছেলেঃ বাবা, কী হলো তোমার? হাসপাতালে নিয়ে গেলে খারাপ কিছু হয়েছিলো?
বাবাঃ চোখ মুছে.... হ্যাঁ মেয়েটার অবস্থা অনেক খারাপ ছিলো। ডাক্তার বললো..সিজার না করলে বাচ্চা এবং মা দুজনকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে যাবে।
তারপর তাকে নিয়ে যায়...প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ডাক্তার বের হয়...ছেলেটা দৌড়ে গিয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার বলে "আপনার একটা ফুটফুটে ছেলে সন্তান হয়েছে" - আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু ডাক্তার আমার ওয়াইফ কেমন আছে? "সরি স্যার আপনার স্ত্রী কে বাঁচানো সম্ভব হয় নি" - ডাক্তার। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও দুজনকে বাঁচাতে পারিনি।
ছেলেটা একথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে মাটিতে বসে পড়ে।
ছেলেঃ (ছেলের চোখে জল ছলছল করছিলো) এভাবে তাদের ভালোবাসা শেষ হয়ে গেলো? এমন মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক ঘটনা!
বাবাঃ না, ভালোবাসা শেষ হয় নি। "স্বপ্ন" তুমি এখন যাও, আমি একটু একা থাকতে চাই।
(স্বপ্নের বাবা কিছুক্ষণ একা থাকতে চাইলো। ছেলে (স্বপ্ন) রুম থেকে চলে গেলো। বাইরে যেয়ে ছেলেটা ভাবতে থাকে পুরো গল্পটা নিয়ে। হঠাৎ তার মনে একটা প্রশ্ন আসে আর সে আবার ঘরে আসে বাবাকে দেখলো....(চলবে)
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০
এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
নবম পর্ব (৯ম পর্ব)
৮ম পর্ব পড়ুন এখানে...
ছেলেঃ হ্যালো...
মেয়েঃ হুম, কী করছো?
ছেলেঃ আমি আবার কী করবো, আমার কথা বাদ দাও। কালকে তোমার বিয়ে, আর এখন বিয়ের প্রস্তুতি না নিয়ে আমাকে কল কেন?
মেয়েঃ কেন! বিয়ে তো কী হয়েছে? তোমাকে কল করা যাবে না?
ছেলেঃ আরে যাবে না কেন, এমনি বললাম আর কি।
মেয়েঃ হুম বুঝি বুঝি, এখনই পরপর ভাবা শুরু করেছো।
ছেলেঃ আপন ভেবে কী হবে! তোমার আপন যে হবে তাকে তো কালকে পেয়ে যাবে।
মেয়েঃ এখনো ঢং করা বাদ দাও বলছি! বিয়ে করলাম না তাই এই অবস্থা। বিয়ে হয়ে গেলে তো জীবনে খোঁজ-ই নিবা না।
ছেলেঃ আমি কী পাগল নাকি, অন্যের বউয়ের খোঁজ নিয়ে তার সংসারে অশান্তি করবো।
মেয়েঃ ধুর, তোমার এসব কথা শুনার জন্য কল করিনি। বাই।। (মেয়েটা কল কেটে দেয়।)
(ছেলেটা ভাবে আজব তো, আমি কী এমন বললাম) কিছুক্ষণ পর মেয়েটা আবার কল করে।
রিসিভ করতেই শুরু.....
মেয়েঃ ওই তোর সমস্যা কী? আমি যে রেগে গিয়ে কল কেটে দিলাম তুই কল ব্যাক করলি না কেন?
ছেলেঃ কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তুই করে বলছো কেন?
মেয়েঃ কী করবো তা!
ছেলেঃ আমি জানি তুমি রাগ করে বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না। ঠিকই আবার কল করবে তাই আমি কল করি নি।
মেয়েঃ হুম, খুব বোঝেন উনি আমাকে। বুঝলে তো আজ এমন হতো না। (বিড়বিড় করে বলে মেয়েটা)
ছেলেঃ কী বিড়বিড় করে বলছো?
মেয়েঃ কিছু না। আচ্ছা তোমার কী আমাকে কিছু বলার আছে?
ছেলেঃ কল করেছো তুমি, কিছু বলার তো তোমার থাকার কথা।
মেয়েঃ আমি কল করেছি বলে তোমার বলার থাকবে না?
ছেলেঃ কী আর বলার থাকবে?
মেয়েঃ ক্যান, কালকে আমার বিয়ে হয়ে যাবে তোমার কী খারাপ লাগছে না? তোমার কষ্ট হচ্ছে না?
ছেলেঃ আজব তো! খারাপ লাগবে বা কেন আর কষ্টই বা লাগবে কেন? এটা তো একটা আনন্দের বিষয়।
মেয়েঃ ওহ, সত্যিই কী খারাপ লাগছে না?
ছেলেঃ না লাগছে না।
মেয়েঃ একটুও মিস করবে না?
ছেলেঃ মিস তো অস্তিত্বহীন মানুষকে কিরা যায়। কিন্তু তোমার অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান। তাই মিস করার প্রশ্নই ওঠে না।
মেয়েঃ যাক ভালো, বুঝেছি।
ছেলেঃ বুঝলেই ভালো।
মেয়েঃ আচ্ছা ভালো থেকো আর হয়তো কখনো কথা হবে না। তুমিও একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিও।
ছেলেঃ হুম ঠিক আছে।
মেয়েঃ রাখছি। (এই বলে মেয়েটা কল কেটে দেয়।কিন্তু ছেলেটা কে তার মনের কথা বলতে পারে না৷ নিজের ভিতর ভালোবাসা লুকিয়ে নিরবে কাঁদতে থাকে।)
শুক্রবার সকাল
মেয়েটা সারারাত না ঘুমিয়ে অঝোরে কেঁদেছে। চেহারা একেবারে ফ্যাকাসে মলিন হয়ে গেছে। বাসার লোকজন বলছে কী রে সারারাত ঘুমাস নি? চেহারার এ কী হাল করেছিস! স্মৃতি কোনো উত্তর দেয় না। বিয়ে বাড়ি
অনেক লোকজন, হাসি উল্লাসে সবাই মেতে আছে। কিন্তু স্মৃতি হাজার লোকের ভীড়েও যেন একা। কাউকে কিছু বলতেও পারছে না আবার ছেলেটাকেও বলতে পারলো না। আজকে অনেকবার সে ছেলেটাকে কল করে। কিন্তু ছেলেটা একবারও কল রিসিভ করে নি। স্মৃতি'র মনে ভালো লাগছে না, কী হলো ওর ফোন তুলছে না কেন? (এভাবে অনেকবার চেষ্টা করেও ছেলেটার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারে নি।)
বাবা,, ও বাবা তারপর কী হলো? এ কী বাবা তুমি কাঁদছো কেন?
- কই পগল কাঁদবো কেন? চোখে কী যেন পড়েছে।
- ওহ। বাবা, তারপর কী হয়েছিলো? সেই ছেলেটার কোনো খোঁজ পেয়েছিলো মেয়েটা?
- "স্বপ্ন" তোমার স্কুলের সময় হয়ে গেছে, যাও গুছিয়ে স্কুলে যাও।
- না বাবা, আজকে গল্পটা পুরো শুনবো। প্লিজ বাবা আজকে স্কুলে না যায়? প্লিজ।
- কোনো কথা না, আগে লেখাপড়া তারপর অন্যকিছু। তুমি স্কুল থেকে এলে বাকিটা শোনাবো।
- ওকে বাবা। কিন্তু এইটুকু তো বলো যে, মেয়েটির কী বিয়ে হয়ে গিছিলো?
- হ্যাঁ......... (চলবে)
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
ছেলেঃ হ্যালো...
মেয়েঃ হুম, কী করছো?
ছেলেঃ আমি আবার কী করবো, আমার কথা বাদ দাও। কালকে তোমার বিয়ে, আর এখন বিয়ের প্রস্তুতি না নিয়ে আমাকে কল কেন?
মেয়েঃ কেন! বিয়ে তো কী হয়েছে? তোমাকে কল করা যাবে না?
ছেলেঃ আরে যাবে না কেন, এমনি বললাম আর কি।
মেয়েঃ হুম বুঝি বুঝি, এখনই পরপর ভাবা শুরু করেছো।
ছেলেঃ আপন ভেবে কী হবে! তোমার আপন যে হবে তাকে তো কালকে পেয়ে যাবে।
মেয়েঃ এখনো ঢং করা বাদ দাও বলছি! বিয়ে করলাম না তাই এই অবস্থা। বিয়ে হয়ে গেলে তো জীবনে খোঁজ-ই নিবা না।
ছেলেঃ আমি কী পাগল নাকি, অন্যের বউয়ের খোঁজ নিয়ে তার সংসারে অশান্তি করবো।
মেয়েঃ ধুর, তোমার এসব কথা শুনার জন্য কল করিনি। বাই।। (মেয়েটা কল কেটে দেয়।)
(ছেলেটা ভাবে আজব তো, আমি কী এমন বললাম) কিছুক্ষণ পর মেয়েটা আবার কল করে।
রিসিভ করতেই শুরু.....
মেয়েঃ ওই তোর সমস্যা কী? আমি যে রেগে গিয়ে কল কেটে দিলাম তুই কল ব্যাক করলি না কেন?
ছেলেঃ কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তুই করে বলছো কেন?
মেয়েঃ কী করবো তা!
ছেলেঃ আমি জানি তুমি রাগ করে বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না। ঠিকই আবার কল করবে তাই আমি কল করি নি।
মেয়েঃ হুম, খুব বোঝেন উনি আমাকে। বুঝলে তো আজ এমন হতো না। (বিড়বিড় করে বলে মেয়েটা)
ছেলেঃ কী বিড়বিড় করে বলছো?
মেয়েঃ কিছু না। আচ্ছা তোমার কী আমাকে কিছু বলার আছে?
ছেলেঃ কল করেছো তুমি, কিছু বলার তো তোমার থাকার কথা।
মেয়েঃ আমি কল করেছি বলে তোমার বলার থাকবে না?
ছেলেঃ কী আর বলার থাকবে?
মেয়েঃ ক্যান, কালকে আমার বিয়ে হয়ে যাবে তোমার কী খারাপ লাগছে না? তোমার কষ্ট হচ্ছে না?
ছেলেঃ আজব তো! খারাপ লাগবে বা কেন আর কষ্টই বা লাগবে কেন? এটা তো একটা আনন্দের বিষয়।
মেয়েঃ ওহ, সত্যিই কী খারাপ লাগছে না?
ছেলেঃ না লাগছে না।
মেয়েঃ একটুও মিস করবে না?
ছেলেঃ মিস তো অস্তিত্বহীন মানুষকে কিরা যায়। কিন্তু তোমার অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান। তাই মিস করার প্রশ্নই ওঠে না।
মেয়েঃ যাক ভালো, বুঝেছি।
ছেলেঃ বুঝলেই ভালো।
মেয়েঃ আচ্ছা ভালো থেকো আর হয়তো কখনো কথা হবে না। তুমিও একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিও।
ছেলেঃ হুম ঠিক আছে।
মেয়েঃ রাখছি। (এই বলে মেয়েটা কল কেটে দেয়।কিন্তু ছেলেটা কে তার মনের কথা বলতে পারে না৷ নিজের ভিতর ভালোবাসা লুকিয়ে নিরবে কাঁদতে থাকে।)
শুক্রবার সকাল
মেয়েটা সারারাত না ঘুমিয়ে অঝোরে কেঁদেছে। চেহারা একেবারে ফ্যাকাসে মলিন হয়ে গেছে। বাসার লোকজন বলছে কী রে সারারাত ঘুমাস নি? চেহারার এ কী হাল করেছিস! স্মৃতি কোনো উত্তর দেয় না। বিয়ে বাড়ি
অনেক লোকজন, হাসি উল্লাসে সবাই মেতে আছে। কিন্তু স্মৃতি হাজার লোকের ভীড়েও যেন একা। কাউকে কিছু বলতেও পারছে না আবার ছেলেটাকেও বলতে পারলো না। আজকে অনেকবার সে ছেলেটাকে কল করে। কিন্তু ছেলেটা একবারও কল রিসিভ করে নি। স্মৃতি'র মনে ভালো লাগছে না, কী হলো ওর ফোন তুলছে না কেন? (এভাবে অনেকবার চেষ্টা করেও ছেলেটার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারে নি।)
বাবা,, ও বাবা তারপর কী হলো? এ কী বাবা তুমি কাঁদছো কেন?
- কই পগল কাঁদবো কেন? চোখে কী যেন পড়েছে।
- ওহ। বাবা, তারপর কী হয়েছিলো? সেই ছেলেটার কোনো খোঁজ পেয়েছিলো মেয়েটা?
- "স্বপ্ন" তোমার স্কুলের সময় হয়ে গেছে, যাও গুছিয়ে স্কুলে যাও।
- না বাবা, আজকে গল্পটা পুরো শুনবো। প্লিজ বাবা আজকে স্কুলে না যায়? প্লিজ।
- কোনো কথা না, আগে লেখাপড়া তারপর অন্যকিছু। তুমি স্কুল থেকে এলে বাকিটা শোনাবো।
- ওকে বাবা। কিন্তু এইটুকু তো বলো যে, মেয়েটির কী বিয়ে হয়ে গিছিলো?
- হ্যাঁ......... (চলবে)
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
শনিবার, ২৩ মে, ২০২০
এই ভালোবাসার শেষ কোথায়?
অষ্টম পর্ব (৮ম পর্ব)
ছেলেঃ কী হলো, কাঁদছো কেন! সব ঠিক আছে তো?
মেয়েঃ কিচ্ছু ঠিক নেই।। (আরো কান্না)
ছেলেঃ ছেলে পক্ষ পছন্দ করে নি বলে কাঁদছো?
মেয়েঃ পছন্দ করে নি তাই না! এতো পছন্দ করা করছে যে আগামী সপ্তাহে বিয়ের তারিখ ঠিক করে গেছে।
ছেলেঃ কী! এতো বড় সুসংবাদ আর তুমি কাঁদছো? কংগ্রাচুলেশনস।।
মেয়েঃ ধুর! আমি বিয়ে করবো না। আমি তোমার সাথে কথা না বলে থাকবো কী করে!
ছেলেঃ ওহ এই ব্যাপার! তোমার হাসব্যান্ড কে বলে আমার সাথে মাঝেমাঝে কথা বলবে, হয়ে গেলো।
মেয়েঃ ধ্যাৎ বোঝে না কিছু। (মেয়েটা ছেলেটাকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে। সব কথা ছেলেটাকে বলতে পারলেও কিসের জন্য অদৃশ্য বাঁধা ভালোবাসি বলতে আটকাচ্ছে।)
ছেলেঃ কী বুঝবো? বোঝায় বলো।
মেয়েঃ নাহ কিছু না, ভালো থেকো। আর দোয়া করি তোমার মনের মতো মেয়েকে বিয়ে করে সুখী হও।
ছেলেঃ হুম হয়েছে। যাও বিয়ের প্রস্তুতি নেও। আর এক সপ্তাহ আছে।
মেয়েঃ বাই।। (কলটা কেটে মেয়েটা কান্না শুরু করে। ভাবে আমি কী ওকে ভালোবাসার কথা টা জানিয়ে দেবো! আবার ভাবে ও যদি আমাকে ভালো না বাসে। ও যদি অন্যকিছু মনে করে, আমাকে যদি ফিরিয়ে দেয়। আচ্ছা ওর মনে কী আছে, ও কী আমাকে ভালোবাসে নাকি শুধু একজন ভালো বন্ধু মনে করে! আমার জানতে হবে। আগে ওর মুখ থেকে জানবো তারপর আমার কথা জানাবো, না হলে কখনোই বলবো না।)
কয়েকদিন পর,
মেয়েটা কল করে ছেলেটা কে...
মেয়েঃ কী করছো?
ছেলেঃ তোমার কথা ভাবছিলাম।
মেয়েঃ আমার কথা! কী ভাবছিলে? (অনেক আগ্রহ নিয়ে)
ছেলেঃ ভাবছি, তোমার বিয়ের পর তোমার কয়টা ছেলে মেয়ে হবে। তাদের কী নাম রাখবে, আমার কথা তাদের বলবে কী না।
মেয়েঃ আমার বিয়ের পর কয়টা ছেলেমেয়ে হবে সেটা তোমার না ভাবলেও চলবে। আমি আর আমার স্বামী ভাববো।
ছেলেঃ বাহ বাহ! দুদিন আগেও বিয়ে করবো না বলে কাঁদছিলে আর এখন আমার স্বামী? বিয়ের আগেই স্বামী ভক্ত! খুব ভালো বাঙালি নারীদের স্বামীর প্রতি ভালোবাসা বেশিই থাকে।
মেয়েঃ হ্যাঁ ভালো তো বাসবো-ই। তুমিও তো বিয়ের পর বউয়ের আঁচল ধরে ঘুরে বেড়াবে।
ছেলেঃ আমার বউকে আমি অনেক ভালোবাসবো।
মেয়েঃ সে তোমার কথাবার্তায় বোঝা যায়। তা আমার কথা কী তোমার ছেলে মেয়েদের বলবে?
ছেলেঃ হ্যাঁ অবশ্যই বলবো, তোমার মতো নাকি।
মেয়েঃ সত্যি! কী বলবে?
ছেলেঃ যা যা হয়েছে সবই বলবো।
মেয়েঃ হুম, আচ্ছা একটা কথা বলবে?
ছেলেঃ কাহিনী কী! আজ পর্যন্ত তো কোনো কিছুতে পারমিশন চাও নি৷ আজ কী এমন কথা বলবে যে অনুমতি চাইছো?
মেয়েঃ নাহ তেমন কিছু না। তোমার কী কোনো পছন্দের মানুষ আছে?
ছেলেঃ পছন্দের মানুষ! হ্যাঁ আছে তো। কেন?
মেয়েঃ আছে! কে সে?
ছেলেঃ তুমি।
মেয়েঃ আমি সিরিয়াস, বলো না কাউকে পছন্দ করো? কাউকে ভালোবাসো?
ছেলেঃ হঠাৎ এই কথা কেন? কী হয়েছে?
মেয়েঃ আরে বলো না।।
ছেলেঃ গত কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি তুমি আমাকে কিছু একটা বলতে চাচ্ছো, কিন্তু বলছো না। কী বলবে নিঃসংকোচে বলে ফেলো।
মেয়েঃ নাহ কিছু না। আর তিনদিন পর আমার বিয়ে, তাই ভাবলাম তোমার পছন্দের যদি কেউ থাকে তার সাথে তোমারও বিয়ে দিতে বলতাম তোমার আম্মু কে।
ছেলেঃ তাই না! আমার বিয়ে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। নিজের বিয়ে নিয়ে ভাবো। আচ্ছা একটা কথা, তোমার হবু বরকে তো দেখালে না?
মেয়েঃ ধুর আমি তাই এখনো দেখি নি।
ছেলেঃ কী বলো! তুমি না দেখেই বিয়েতে রাজি হয়েছো? দেখবে না?
মেয়েঃ না দেখবো না। ছবি দেখতে বলেছিলো, আমি রাগ করে দেখি নি।
ছেলেঃ আজব তো! ছেলে যদি দেখতে সুন্দর না হয়, চোখ ট্যারা হয়, তখন??
মেয়েঃ সে যেমনই হোক, বাসর রাতে ওকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলবো।
ছেলেঃ কী সাংঘাতিক মেয়ে রে বাবা! বরকে মেরে জেলে যাওয়ার শখ হয়েছে?
মেয়েঃ বরকে মেরে জেলে সারাজীবন থাকবো। তোমার কোনো সমস্যা?
ছেলেঃ নাহ, আমার আবার কী সমস্যা! আমি মাঝে মাঝে জেলে তোমার সাথে দেখা করতে যাবো।
মেয়েঃ কারো দেখা করতে আসতে হবে না। রাখো তো ফোন কথা বলতে ইচ্ছা করছে না।
বৃহস্পতিবার, মেয়েটার গায়ে হলুদ হয়ে গেলো। আগামীকাল তার বিয়ে, কিন্তু ছেলেটাকে এখনো তার মনের কথা বলতে পারে নি৷ রাতে সিন্ধান্ত নিলো এবার বলেই দেবে, যা হবার তাই হবে।
মেয়েটা ছেলেটা কে কল করলো....(চলবে)
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
