Welcome To My Official Blog Site

নতুন নতুন সব আপডেট পেতে আমাদের সাইটের সাথেই থাকুন। আর কোন সমস্যা হলে আমার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করবেন www.facebook.com/ShaharukhOfficial

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

এই জীবন শুধু যাপন করা নয় | মোঃ শাহারুখ হোসেন

জীবন শুধু টিকে থাকার নাম নয়,

জীবনকে মাঝে মাঝে উদযাপন করতে হয়।


একই রুটিনে, একই কাজ করতে করতে

কখন যে জীবন একঘেয়ে হয়ে যায়, আমরা নিজেরাই টের পাই না।

হাসি কমে যায়, আগ্রহ হারিয়ে যায়,

একসময় নিজের জীবনটাই আমাদের কাছে বোরিং লাগে।

সেখান থেকেই জন্ম নেয় হতাশা,

আর সেই হতাশা ধীরে ধীরে আমাদের গ্রাস করে ফেলে।


কিন্তু জীবন এমন হওয়ার কথা না।

জীবন মানে শুধু দায়িত্ব আর দৌড় নয়।

জীবন মানে পরিবারকে সময় দেওয়া,

প্রিয় মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখা,

মাঝে মাঝে থেমে নিজেকে জিজ্ঞেস করা—

আমি কি ভালো আছি?


যেখানে মন ভালো থাকে না,

সেখান থেকে সরে আসতে জানতে হয়।

যেখানে মন শান্তি পায়,

সেখানেই যাওয়ার সাহস রাখতে হয়।

সব সময় সবাইকে খুশি করতে গিয়ে

নিজেকে অবহেলা করলে চলবে না।


শেষ পর্যন্ত,

নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্বটা

নিজেরই।


কারণ আপনি ভালো থাকলেই,

আপনার জীবনটাও সুন্দর হবে।


#জীবন_উদযাপন

#নিজেকে_ভালো_রাখুন

#মানসিক_শান্তি

#জীবনের_কথা

#নিজের_জন্য_বাঁচুন

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সফলতার কোন শর্টকাট নাই | মোঃ শাহারুখ হোসেন

সফলতার কোনো শর্টকাট নেই।

জীবনে এগোতে হলে স্ট্রাগল করতেই হবে।

উত্থান–পতন, বাধা–বিপত্তি, হতাশা—

সবকিছুর মধ্য দিয়েই মানুষ গড়ে ওঠে।


খুব দ্রুত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না।

জীবনপথে ধীরে ধীরে হাঁটতে হয়,

প্রতিটা ধাপে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়।


চেষ্টা, অধ্যবসায় আর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল—

এই তিনটা নিয়েই নীরবে কাজ করে যেতে হয়।

কাউকে দেখানোর দরকার নেই,

কাউকে বোঝানোরও না।


সময় এলে ফল নিজেই কথা বলবে।

ইনশাআল্লাহ,

আল্লাহ তাআলা উত্তম পরিকল্পনাকারী—

তিনি জানেন কখন, কীভাবে,

কাকে কোথায় পৌঁছে দিতে হবে।

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

বিদায় অরিজিৎ সিং

 

কিছু মানুষ গান গায় না—তারা আমাদের অনুভূতিগুলো গেয়ে তোলে।

Arijit Singh ঠিক তেমনই একজন মানুষ।


আজ যখন শুনি, তিনি প্লেব্যাক সিঙ্গিং থেকে অবসরের কথা ভাবছেন—মনটা অদ্ভুত এক শূন্যতায় ভরে যায়।

কারণ তিনি শুধু একজন গায়ক নন,

তিনি ছিলেন—

আমাদের ভাঙা হৃদয়ের ভাষা,

নিঃশব্দ কান্নার সুর,

অপূর্ণ ভালোবাসার শেষ আশ্রয়। 💔


“তুম হি হো” আমাদের ভালোবাসা চিনিয়েছে,

“চান্না মেরেয়া” বিদায়ের ব্যথা শিখিয়েছে,

“আগার তুম সাথ হো” অসম্পূর্ণতার কান্না,

“ফির লে আয়া দিল” হারানো মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে,

আর “কে তুম হি তো”, “খাইরিয়াত”, “শায়াদ”—

এই গানগুলো শুধু গান ছিল না,

এগুলো ছিল আমাদের জীবনের অধ্যায়। 🎵


অনেক মানুষ তার গানে হাসতে শিখেছে,

অনেক মানুষ কেঁদে হালকা হয়েছে,

অনেক ভাঙা মানুষ নতুন করে বাঁচার সাহস পেয়েছে।


আজ যদি সত্যিই তিনি অবসর নেন,

তাহলে মাইকটা নামবে—

কিন্তু তার কণ্ঠ নামবে না।

সে কণ্ঠ থাকবে আমাদের হেডফোনে,

রাত জাগা চোখে,

একলা পথচলায়,

এবং সেই মানুষটার স্মৃতিতে—যাকে আমরা কখনো ভুলতে পারিনি। 🌙


শিল্পী অবসর নিতে পারেন,

কিন্তু লিজেন্ড কখনো অবসর নেন না।

আপনি গান ছেড়ে যেতে পারেন, Arijit,

কিন্তু আমাদের হৃদয় ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ❤️


ধন্যবাদ—

ভালোবাসার ভাষা হয়ে ওঠার জন্য।

🎤✨

#ArijitSingh

#ThankYouArijit

#LegendNeverRetires

#VoiceOfHearts

#BollywoodMelody 🎶


~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

আমাদের জীবনে যখন দুঃখ নেমে আসে,

আমাদের জীবনে যখন দুঃখ নেমে আসে,

যখন অকারণে মনে হয় সবকিছু উল্টো দিকে যাচ্ছে,

তখন আমরা খুব সহজেই একজন দোষী খুঁজে নেই—

সমাজ, মানুষ, আত্মীয়, ভাগ্য…

কিন্তু খুব কম মানুষই সাহস করে আয়নার দিকে তাকায়।


অথচ সত্যিটা প্রায়ই কঠিন—

বেশিরভাগ দুঃখই আসে নিজের কর্মফল থেকে।

আমাদের বলা কথা, করা ব্যবহার, অবহেলা, অহংকার—

এসবই একদিন ফিরে আসে,

ঠিক যেভাবে ছায়া রোদে আমাদের পিছু নেয়।


আমাদের চোখে যেন অদ্ভুত এক পর্দা পড়ে যায়।

অন্যের ছেলের দোষ পরিষ্কার দেখি,

অন্যের মেয়ের ভুলে বড় বড় কথা বলি,

কিন্তু নিজের ঘরের ভেতরের ভুলগুলো

চোখে পড়েই না।


সবসময় মনে হয়—

আমরাই ঠিক,

আমরাই নির্দোষ,

আর বাকি সবাই ভুল।


কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—

মা–বাবার সাথে দুর্ব্যবহার করে

কোন সন্তান কখনো বড় হতে পারেনি,

আজ পর্যন্ত না, ভবিষ্যতেও না।


বাবার দিকে তাকাতে বলা হয়েছে নেক দৃষ্টিতে,

মায়ের সাথে কথা বলতে বলা হয়েছে নরম ভাষায়।

উহ্ শব্দটুকুও যেন কষ্ট না দেয়—

এই শিক্ষাগুলো আমরা জেনেও ভুলে যাই।


অথচ পরে যখন জীবনে অশান্তি নামে,

ব্যর্থতা আসে,

বরকত কমে যায়—

তখন আমরা দোষ দিই অন্য মানুষকে,

কখনো ভাগ্যকে, কখনো পরিস্থিতিকে।


কিন্তু আমরা মানতে চাই না—

হয়তো এই কষ্টের শিকড়টা

আমারই কোন কথায়,

আমারই কোন আচরণে,

আমারই কোন অবহেলায় গাঁথা।


আত্মসমালোচনা করা সহজ নয়,

কিন্তু এটাই মানুষ হওয়ার প্রথম ধাপ।


আজ যদি একটু থেমে

নিজের দিকে তাকাই,

নিজের ব্যবহার ঠিক করি,

মা–বাবার কাছে মাথা নত করি—

তাহলেই হয়তো বুঝতে পারব,

দুঃখটা আসেনি শত্রুর হাত ধরে,

এসেছিল আমারই ভুল পথ ধরে।


কারণ জীবন কাউকে শাস্তি দেয় না,

জীবন শুধু হিসাব মিলিয়ে দেয়।


~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

কুড়াল এর গল্প

 

জঙ্গল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল।

একটার পর একটা গাছ কাটা পড়ছিল।

পাতা ঝরছিল, ছায়া হারাচ্ছিল, পাখিরা বাসা ছেড়ে পালাচ্ছিল।

তবুও আশ্চর্যের বিষয়—

সব গাছই ভোট দিচ্ছিল কুড়ালকেই।


কারণ গাছগুলোর যুক্তি ছিল খুব সরল—

“কুড়ালের ধারটা লোহা হলেও,

এর হাতলটা তো আমাদেরই কাঠ দিয়ে বানানো।

ও নিশ্চয়ই আমাদের ক্ষতি করবে না।”


🌿 এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত।


শত্রু সব সময় বাইরে থেকে আসে না।

অনেক সময় সে আসে আমাদেরই ভাষা নিয়ে,

আমাদেরই রঙ মেখে,

আমাদেরই পরিচয় ব্যবহার করে।


গাছগুলো বুঝতে পারেনি—

কুড়ালের আসল শক্তি লোহায়,

কিন্তু সেই লোহাকে চালানোর ক্ষমতা এসেছে নিজেদের কাঠ থেকেই।

অর্থাৎ ধ্বংসের হাতিয়ার তৈরি হয়েছে ভেতরের সহযোগিতায়।


🧠 জীবনের গভীর সত্য এখানেই

যে তোমার মতো কথা বলে,

যে তোমার পরিচয় ব্যবহার করে,

সে সব সময় তোমার পক্ষে—এমন নয়।


অনেক সময় সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে

“আমাদের লোক” সেজে থাকা মানুষগুলোই।


রাজনীতি হোক, সমাজ হোক, সম্পর্ক হোক বা পরিবার—

যখন আমরা যোগ্যতা নয়, নীতি নয়,

বরং শুধু সমগোত্রীয়তার মোহে সিদ্ধান্ত নিই,

তখন ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে।


🔥 গাছেরা ভাবছিল—

“হাতল তো আমাদেরই একজন”

কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল—

হাতল নিজে কিছু নয়,

সে কেবল ধারালো লোহার নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার মাধ্যম।


আজও আমরা তাই করি—

নিজেদের সর্বনাশের চাবি

নিজেদের হাতেই তুলে দিই।


⚠️ শিক্ষা একটাই—

পরিচয় দেখে নয়,

উদ্দেশ্য দেখে বিশ্বাস করো।

কথা দেখে নয়,

কাজ দেখে সিদ্ধান্ত নাও।


নইলে একদিন দেখবে—

জঙ্গল নেই, ছায়া নেই,

শুধু পড়ে আছে কিছু গুঁড়ি আর

একটা কুড়াল…

যার হাতলটা একসময় আমাদেরই ছিল।


~ মো: শাহারুখ হোসেন

শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

ছোটোবেলা বনাম বড়োবেলা | প্রবন্ধ | মোঃ শাহারুখ হোসেন | Md. Shaharukh Hossain

ছোটোবেলা বনাম বড়োবেলা

মোঃ শাহারুখ হোসেন

যখন ছোটো ছিলাম তখনকার দিনগুলো সত্যিই চমৎকার ছিলো। মনে পড়ে আজও সেইদিনের কথা। যেদিন প্রথম, বাবার হাত ধরে স্কুলে গিছিলাম। স্কুল জীবন অনেক ভালোই ছিলো। কারণ অনেক ছোটো ছিলাম এবং বুঝতামও কম। আসলে মানুষ যখন ছোটো থাকে তখন তার চাওয়া পাওয়া গুলোও অনেক কম থাকে। কিন্তু যখন ধীরে ধীরে বড়ো হতে থাকে তখন চাওয়া পাওয়া গুলোও বাড়তে থাকে। তখন সে তার বর্তমান সময়কেই উপভোগ করতে পারে না। তাঁর একটাই কারণ, চাহিদাগুলো পূরণের জন্য সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হয়।

যাইহোক, স্কুল থেকে ফিরে মাঠে ছুটে যেতাম, খেলাধুলা করতে। সারাদিন খেলাধুলা করে সন্ধ্যায় যখন বাসায় ফিরতাম, তখন সারা শরীরে ময়লা লেগে থাকতো। আম্মু অনেক বকাঝকা করে হাত-পা ধুঁয়ে ঘরে উঠতে বলতো। আমি তখন হাত-পা ধুঁয়ে ঘরে গিয়ে পড়তে বসতাম। পড়া শেষ ক'রে খেতে বসতাম, খাওয়া শেষ ক'রে দাঁত ব্রাশ ক'রে ঘুমাতে যেতাম। কিন্তু এখন?? এখন তো অনেক বড়ো হয়েছি, অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি। তাইতো ছোটো বেলার মতো আর খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়া হয় না। সারারাত জেগে থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করি। ইন্টারনেট এর নেশা এখন আর ঘুমাতে দেয় না। প্রযুক্তি এসেছে আমাদের কল্যাণের জন্য। আর আমরা নিজেরাই সেটা অকল্যাণকর করে ফেলেছি। সবসময় সোশ্যাল সাইটগুলোতে অযথা সময় নষ্ট করছি। আগের মতো আর মাঠে যেয়ে খেলাধুলা হয় না, যা হয় তা মোবাইল বা কম্পিউটারে বসে গেম খেলা। এতে করে শরীর স্বাস্থ্য ঠিক না হয়ে বরঞ্চ চোখের ক্ষতি হচ্ছে। এর ফলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের অল্প বয়সে বড়ো বড়ো চশমা পরতে হচ্ছে। ছোট বেলার কিছু স্মৃতি কখনওই ভোলার নয়....

⚄হাতগুলো জামার মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়ে বলতাম, আমার হাত কোথায়?? আমার হাত নেই নেই।
⚄যখন বাসায় কোন আত্বীয় আসতো আগে দেখতাম খাওয়ার কী এনেছে..
⚃দরজার পিছনে লুকিয়ে থাকতাম কেউ এলে চমকে দেব বলে, সে আসতে দেরি করছে বলে অধৈর্য হয়ে বেরিয়ে আসতাম।
⚃ভাবতাম আমি যেখানে যাচ্ছি, চাঁদটাও আমার সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে।
⚃সুইচের দুদিকে আঙুল চেপে অন্-অফ এর মাঝামাঝি ব্যালেন্স করার চেষ্টা করতাম।
⚃দু -ফোটা জল ফেলে রেস করাতাম, কোনটা গড়িয়ে আগে নীচে পড়ে।
⚃সূর্যের দিকে কে কতক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারে, কার আগে চোখ থেকে পানি বের হয় এটা দেখতাম। 
⚃প্রথম দাঁত ফেলার পর সেই দাঁত ইঁদুরের গর্তে ফেলতাম, আর দাঁত যদি কাঁকে দেখে ফেলে তাহলে নাকি আর কখনও দাঁত উঠবে না।
⚃বৃষ্টি হলে ছাতা না নিয়ে কচু বা কলাপাতা মাথায় দিয়ে বলতাম, দ্যাখ জল গায়ে লাগছে না।
⚃তখন আমাদের শুধু একটা জিনিসের খেয়াল রাখার দায়িত্ব ছিল, সেটা হল স্কুলব্যাগ।
⚄মাথায় মাথায় একবার গুঁতা খেলে বলতাম আরেকবার গুঁতা দে, না হলে মাথায় শিং উঠবে।
⚄ফল দানা খেয়ে ফেললে দুশ্চিন্তা করতাম, পেটের মধ্যে এবার গাছ হবে।

আসলে ছোটোবেলার স্মৃতিগুলো অনেক মধুর ছিলো, ভাবতেই ভালো লাগে সেসব কথা। কিন্তু এখনকার যে সব স্মৃতি তৈরি হচ্ছে তা আমরা মনে রাখতে চাই না বা মনে রাখার মতো কিছুই না। এখনকার অতিবাহিত সময়গুলো শুধুই কষ্ট দেয়, এগুলো আমরা খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যেতে চাই।

ছোটোবেলায় সবথেকে বেশিবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটার উত্তর, আমি অবশেষে পেয়েছি- তুমি বড়ো হয়ে কী হতে চাও?
উত্তর- আবার ছোটো হতে চাই............।

বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

আজ আমার জন্মদিন | Aaj Amar Jonmodin | Birthday Story | মোঃ শাহারুখ হোসেন | Md. Shaharukh Hossain


আলহামদুলিল্লাহ

আজ আমার জন্মদিন!


আজকের এই তারিখে আমি এই দুনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলাম। আমি সর্বপ্রথম আমার সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর প্রতি জানাই লাখো কোটি শুকরিয়া। এরপর সশ্রদ্ধ সালাম ও চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রাণ প্রিয় আব্বু আম্মুর প্রতি, যাদের মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন।


ইতিমধ্যে অনেকেই আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, আমি যেন আমার জন্মকে সার্থক করতে পারি আমার কর্মের মাধ্যমে। জীবনে চলার পথে হয়তো অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে। অনেকে হয়তো আমার কাছ থেকে কষ্ট পেয়েছেন। সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।


আজকের সেইদিনে কতো খুশি হয়েছিলেন আমার পরিবার। আমার জন্মের সাথে যেন সবার মনে খুশির ঝলক নিয়ে এসেছিলো। আমার হামাগুড়ি দিয়ে চলা, প্রথম কথা বলা; আম্মু আব্বুর জন্য আনন্দের মুহূর্ত ছিলো। আমাকে নিয়ে তাদের মনে কতো স্বপ্নের জন্ম হয়েছিলো। আজ শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেছি। জীবনে চলার পথে ছোট বড় কতো নতুন গল্পের জন্ম হয়েছে।


আমি আমার জন্মদিনে কোনো গিফট পাই না, কারো কাছ থেকে ফুলের তোড়ার শুভেচ্ছাও পাই না! তারপরও আমি সারাদিন নিজের মতো করে ভালো থাকি। জন্মানোর এই তারিখটা সবারই যেন প্রিয় হয় এবং আমারও ব্যতিক্রম নয়। সবকিছু মিলিয়ে এই দিনে কেমন যেন একটা ভালো লাগা কাজ করে।


জীবনের বেঁধে দেওয়া সময় থেকে কমে গেলো আরো একটি বছর। মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেলাম আরো এক ধাপ। আফসোস! জীবন থেকে কতো দিন, মাস, বছর পেরিয়ে গেছে। কতো আল্লাহর হুকুম অমান্য করে ফেলেছি। যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ আমাকে এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন তার কিছুই করতে পারিনি।

তাই বাকি জীবন যেন আল্লাহর পথে চলতে পারি এবং আল্লাহর সব হুকুম মেনে জীবন পথে অগ্রগামী হতে পারি আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দান করেন। [আমিন।]


~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০

মোঃ শাহারুখ হোসেন'র লেখা গল্প

সম্পর্কের তুলনা
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন
-------------------------------

আমাদের বর্তমান সম্পর্কগুলো অনেক ঠুনকো হয়। আমরা খুব সহজেই সম্পর্ক গড়ে তুলি আবার কোনো কারণ ছাড়াই ভেঙ্গে ফেলি। সম্পর্ক ভাঙ্গা গড়াই আমাদের প্রজন্ম (আমরা) অনেক বেশি পটু।

সম্পর্ক তো গড়ে ওঠে নানাভাবে। কিন্তু নষ্ট হয় আমাদেরই কিছু সাধারণ ভুলের কারণে। আমরা সব সময় একজনের সাথে আরেকজনের তুলনা করে থাকি। কেউ যদি প্রথম কাউকে ভালোবাসে অথবা সম্পর্কে জড়ায়, তাহলে তার সবকিছুই যেন ভালো লাগতে শুরু করে। তার সবকিছু যেন মনের মাঝে গেঁথে যেতে থাকে। তার করা প্রতিশ্রুতিগুলো মনের মাঝে স্বপ্ন আঁকে।

কিছুদিন যেতে না যেতে আমরা আমাদের আশেপাশের সম্পর্কগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। ওর বয়ফ্রেন্ড কেমন, ওর গার্লফ্রেন্ড কেমন, ওরা একে অপরের জন্য কতো কী করে এসব দেখি আর নিজেদের সম্পর্কের সাথে তুলনা করি। এই তুলনা করার কারণে আমাদের সম্পর্ক জটিল হতে থাকে। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হয়। তুমি কেন ওর বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড এর মতো করো না? তুমি কেন এরকম, ওরা দেখো কতো ভালো আছে। তুমি কেন ওদের মতো আমাকে ভালোবাসো না? এসব ঠুনকো অভিযোগগুলো এক সময় অনেক বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ধীরে ধীরে সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। একে অন্যের জন্য হয়তো সঠিক না, এমনটা অনুভব হতে শুরু করে।

আর এসব কারণে যদি আমাদের সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়, আমরা অনেক ভেঙ্গে পড়ি। তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি, তার বলা সব কথা মনে পড়ে যায়। আর ধীরে ধীরে নিজের ওপর রাগ হতে থাকে। কেন এমন মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়ালাম! ভালোবাসা নামক শব্দের ওপর থেকে আস্থা উঠে যায়। কাউকে আর বিশ্বাস করতে বা ভালোবাসতে ইচ্ছে করে না। আমরা সবার মাঝে ওই প্রথম জনের প্রতিরূপ দেখতে শুরু করি। আর তাই কেউ যদি নতুন করে ভালোবাসার কথা বলে তখন তার সাথে ওই প্রথম জনের তুলনা করি। এজন্য অন্য সবাইকে প্রথম জনের মতো মনে হয়।

প্রথম সম্পর্কের সাথে তুলনা করি বলেই অন্যদেরকে আমাদের কাছে মিথ্যা, প্রতারক, বিশ্বাসঘাতক ইত্যাদি মনে হয়। আমরা ভাবতে থাকি এবার যদি কারো সাথে সম্পর্ক করি তাহলে হয়তো সেও আমাকে প্রথমজনের মতো ভালোবাসবে না, আমাকে ঠকাবে, আমার বিশ্বাস ভাঙবে, আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।

কিন্তু আমরা এই ছোট্ট বিষয়টা বুঝি না, সম্পর্ক কিন্তু আমাদের নিজেদের জন্য ভেঙ্গে গেছে। আমরা কী সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ খুঁজে দেখি? কখনো কী ভেবে দেখেছি আমাদের দূরত্ব কেন তৈরি হচ্ছে? দোষ কী শুধু ওই মানুষটার ছিলো, নাকি আমারও কিছু ভুল ছিলো? এসব প্রশ্নের জবাব না খুঁজেই আমরা অন্যদেরকেও ভুল বুঝতে শুরু করি। আরে আমি বা আপনি প্রথমে ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিলাম বলে অন্যরাও যে সেই প্রথম মানুষের মতো হবে এমন তো কোনো কথা নেই।

প্রথম সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণ অন্য সম্পর্কের সাথে তুলনা আর পরবর্তীতে নতুন সম্পর্কে জড়াতে না চাওয়াটা প্রথম সম্পর্কের সাথে তুলনা। এই তুলনা আমাদেরকে ভালো থাকতে দেয় না, সবকিছুতেই যেন বাঁধা সৃষ্টি করে। আমাদের জীবনে আসা প্রথম ব্যক্তির মতো সবাই নাও হতে পারে। একবার ঠকেছেন বলে আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসাকে কেন ভুল বুঝবেন? আমরা প্রথমে ভুল ব্যক্তিকে ভালোবেসেছি, ঠকেছি; এটা আমাদের ভুল। অন্য সবাইকে কেন প্রথম ভুল ব্যক্তির সাথে তুলনা করতে হবে??

যতোদিন আমরা একজনের সাথে আরেকজনের তুলনা করতে থাকবো ততোদিন আমরা কখনোই কারো সাথে সুখী হতে পারবো না। সবাইকে নিজের জন্য অযোগ্যই মনে হবে। যেটা পেয়েছি সেটা নিয়ে যদি সন্তুষ্ট না থাকি তবে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হবে এটাই স্বাভাবিক। খুব কম প্রত্যাশা আর সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা'ই পারবে আমাদের সম্পর্কগুলো আরো বেশি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে।

বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯

ক্রাশ বনাম ভালোবাসা - মোঃ শাহারুখ হোসেন


ক্রাশ বনাম ভালোবাসা
- মোঃ শাহারুখ হোসেন
-------------------------------

আধুনিক যুগের ছেলে-মেয়েরা এখন যেকোনো সময় ক্রাশ খাচ্ছে। রাস্তাঘাট, স্কুলকলেজ কিংবা যেকোনো স্থানে হঠাৎ করেই ক্রাশ খায়। আসলে ক্রাশ কী? বা ক্রাশই কী প্রকৃত ভালোবাসা?? নাকি অন্য কিছু?? এসব বিষয় নিয়েই আসলে আজকে লিখতে বসেছি।

সর্বপ্রথম ক্রাশ সম্পর্কে প্রথমে জেনে নেওয়া দরকার। ইংরেজি Crush শব্দটি যদি Dictionary-তে সার্চ করেন তাহলে বেশকিছু অর্থ দেখবেন। যেমনঃ ভাঙ্গা, প্রবল চাপ, সর্বনাশগ্রস্ত হওয়া, পিষা ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে অবশ্য কেউ কাউকে দেখে ভালো লাগলেই প্রতীকী অর্থে 'ক্রাশ' খেয়েছি এমটা বলে থাকেন। ভালো লাগার কথা জানান দেয়ার/প্রকাশের বিকল্প শব্দ হিসেবে ক্রাশ শব্দটা এখন বহুল প্রচলিত।
কাউকে প্রথম দেখার পর থেকে তার প্রতি অদ্ভুত একধরণের আকর্ষণবোধ করাকেই ক্রাশ বলে। এই সময়টাতে একধরণের বিশেষ ভালো লাগা কাজ করে। সব কিছুই ভালো লাগতে শুরু করে। যার ওপর এই ক্রাশ তাকে নিয়েই ভাবতে ভালো লাগে। এই সময়ে ক্রাশ খাওয়া ব্যক্তি অনেক অদ্ভুত কিছু কান্ড করতে থাকেন যেটা হয়তো বন্ধুবান্ধব এর নজরে পড়ে। কিন্তু মনের অজান্তেই সবাই এই কাজগুলো করেন। কারণ তিনি তখন আসলেই অন্য এক জগতে বসবাস করতে থাকেন। ব্যাপক অর্থে কারো প্রতি সেই রকমের আকর্ষণ, টান অনুভব করাই হলো ক্রাশ।

অন্যদিকে ভালোবাসা হচ্ছে সেই সম্পর্ক যাকে সংঙ্গায়িত করা সম্ভব নয়। ভালোবাসা হচ্ছে বিশেষ কারো জন্য মনের এক নিঃস্বার্থ সুন্দর অনুভূতি, কোনো চোখের নেশা নয়, যা সৃষ্টিকর্তার পক্ষ হতে উপহার স্বরুপ এবং যার কখনো পরিবর্তন হয়না তাকে ভালোবাসা বলা যায়।
আসলে ভালোবাসা বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। মা-বাবার ভালোবাসা, ভাই-বোনের ভালোবাসা, আত্বীয়-স্বজনের ভালোবাসা, বন্ধুবান্ধবের ভালোবাসা, প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা ইত্যাদি। প্রতিটা ভালোবাসার সম্পর্ক আলাদা হয়ে থাকে। এগুলো আসলে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে যে ভালোবাসাটা কেমন হবে।

তো এখন আমার কাছে যেটা মনে হয়, ক্রাশ আসলে প্রকৃত ভালোবাসা হতে পারে না। কারন বর্তমান সময়ে আমরা যে কথায় কথায় একজন আরেকজনকে দেখে ক্রাশিত হচ্ছি এটা শুধু চোখের ভালো লাগা। কারন আপনি যখন তাকে দেখেই বলছেন, কী সুন্দর!, OMG! বা My Crush! ইত্যাদি বলছেন তাহলে সেটা আপনার তার চেহারা দেখেই হয়েছে। প্রকৃত ভালোবাসা কখনো চেহারা বা সৌন্দর্য দেখে হয় না। ভালোবাসা হয় মন থেকে, মনের অজান্তেই হয়ে যায়। দুজন দুজনকে চিনতে জানতে অনেকটা সময় লাগে।

একটা উদাহরণ দিলে হয়তো বিষয়টা আপনাদের কাছে আরো বেশি স্পষ্ট হবে। মনে করুন, আপনি যাকে দেখে ক্রাশ খেয়েছেন সে একদিন হঠাৎ করে কোন দুর্ঘটনায় পড়ল এবং তার একটি পা কেটে ফেলতে হলো অথবা যেকোনো কারনে তার মুখের কিছু অংশ পুড়ে চেহারা নষ্ট হয়ে গেলো। তখন কি সে আপনার আর ক্রাশ থাকবে?? থাকবে না কারন আপনি তার চেহারার উপর ক্রাশ খেয়েছিলেন। সেটা যতদিন থাকবে আপনার ক্রাশও ততদিন থাকবে।
কিন্তু এমন দুর্ঘটনাজনিত কারনে যদি আপনার মা-বাবার কোন অঙ্গহানি হয়, তাহলে কি আপনার ভালোবাসা মা-বাবার ওপর থেকে কমে যাবে?? মনে হয় না ভালোবাসা কমবে বরঞ্চ বেড়ে যাবে। কারণ আপনার মা-বাবা আপনার ক্রাশ না, তাদেরকে আমরা মন থেকেই ভালোবাসি।

অনেকে হয়তো বলবেন, প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসার সাথে মা বাবার ভালোবাসা তুলনা করছি কেনো? তাহলে মা-বাবার ভালোবাসা বাদ দিলাম, এখন ধরুন আপনার প্রকৃত ভালোবাসার মানুষের সাথে এমন দুর্ঘটনা ঘটল তখন আপনি কি করবেন? আপনি তাকে ঠিকই ভালোবেসে যাবেন যদি সেটা মনের ভালোবাসা হয়ে থাকে। কারন বিয়ের পর কোনো স্ত্রীর বা স্বামীর সাথে এমন দুর্ঘটনা ঘটলে তারা নিশ্চয় তাদের ছেড়ে যাবে না। কারণ তাদের ভালোবাসা হচ্ছে প্রকৃত ভালোবাসা, কোনো ক্রাশ নয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।

আমার চিন্তাধারার সাথে হয়তো অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবেন। কিন্তু আমার কাছে ক্রাশ এবং ভালোবাসা বলতে যেটা মনে হয়েছে তাই লিখলাম। ক্রাশ থেকে কখনও প্রকৃত ভালোবাসা হতে পারে না। যেটা হয় সেটা খুবই সাময়িক বা ক্ষণস্থায়ী।

পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ আর আপনাদের মতামত কমেন্ট জানাবেন "ক্রাশ এবং ভালোবাসা" সম্পর্কে।
(যদি ভালো লাগে শেয়ার করতে পারেন। কপি/পেষ্ট করলে লেখকের নামটা অবশ্যই মেনশন করবেন)