আমাদের জীবনে যখন দুঃখ নেমে আসে,
যখন অকারণে মনে হয় সবকিছু উল্টো দিকে যাচ্ছে,
তখন আমরা খুব সহজেই একজন দোষী খুঁজে নেই—
সমাজ, মানুষ, আত্মীয়, ভাগ্য…
কিন্তু খুব কম মানুষই সাহস করে আয়নার দিকে তাকায়।
অথচ সত্যিটা প্রায়ই কঠিন—
বেশিরভাগ দুঃখই আসে নিজের কর্মফল থেকে।
আমাদের বলা কথা, করা ব্যবহার, অবহেলা, অহংকার—
এসবই একদিন ফিরে আসে,
ঠিক যেভাবে ছায়া রোদে আমাদের পিছু নেয়।
আমাদের চোখে যেন অদ্ভুত এক পর্দা পড়ে যায়।
অন্যের ছেলের দোষ পরিষ্কার দেখি,
অন্যের মেয়ের ভুলে বড় বড় কথা বলি,
কিন্তু নিজের ঘরের ভেতরের ভুলগুলো
চোখে পড়েই না।
সবসময় মনে হয়—
আমরাই ঠিক,
আমরাই নির্দোষ,
আর বাকি সবাই ভুল।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—
মা–বাবার সাথে দুর্ব্যবহার করে
কোন সন্তান কখনো বড় হতে পারেনি,
আজ পর্যন্ত না, ভবিষ্যতেও না।
বাবার দিকে তাকাতে বলা হয়েছে নেক দৃষ্টিতে,
মায়ের সাথে কথা বলতে বলা হয়েছে নরম ভাষায়।
উহ্ শব্দটুকুও যেন কষ্ট না দেয়—
এই শিক্ষাগুলো আমরা জেনেও ভুলে যাই।
অথচ পরে যখন জীবনে অশান্তি নামে,
ব্যর্থতা আসে,
বরকত কমে যায়—
তখন আমরা দোষ দিই অন্য মানুষকে,
কখনো ভাগ্যকে, কখনো পরিস্থিতিকে।
কিন্তু আমরা মানতে চাই না—
হয়তো এই কষ্টের শিকড়টা
আমারই কোন কথায়,
আমারই কোন আচরণে,
আমারই কোন অবহেলায় গাঁথা।
আত্মসমালোচনা করা সহজ নয়,
কিন্তু এটাই মানুষ হওয়ার প্রথম ধাপ।
আজ যদি একটু থেমে
নিজের দিকে তাকাই,
নিজের ব্যবহার ঠিক করি,
মা–বাবার কাছে মাথা নত করি—
তাহলেই হয়তো বুঝতে পারব,
দুঃখটা আসেনি শত্রুর হাত ধরে,
এসেছিল আমারই ভুল পথ ধরে।
কারণ জীবন কাউকে শাস্তি দেয় না,
জীবন শুধু হিসাব মিলিয়ে দেয়।
~ মোঃ শাহারুখ হোসেন

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন